ঘটনার সময়ই নিরাপত্তারক্ষীরা কিশোরকে আটক করে। পরে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া তাঁর সদস্যপদ সাময়িকভাবে বাতিল করে।

বি আর গাভাই এবং রাকেশ কিশোর
শেষ আপডেট: 8 October 2025 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের (CJI BR Gavai) দিকে জুতো ছুড়ে মারার চেষ্টা করে সাসপেন্ড হয়েছেন আইনজীবী রাকেশ কিশোর (Rakesh Kishore)। সোমবার আদালতের ভিতরেই তিনি এই ঘটনা ঘটান। এবার রাকেশ কিশোরের ওপর চাপ আরও বাড়ল। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা (Criminal Contempt Action) শুরু করার অনুমতি চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সময়ই নিরাপত্তারক্ষীরা কিশোরকে আটক করে। পরে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (Bar Council of India) তাঁর সদস্যপদ সাময়িকভাবে বাতিল করে। ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমে কিশোর জানান, ‘‘আমি রাগে নয়, গভীর মানসিক যন্ত্রণায় এই কাজ করেছি। বারবার হিন্দু ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপে আমি আহত।’’
তিনি দাবি করেন, ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় বিচারপতি গাভাই নাকি ‘অশ্রদ্ধাজনক মন্তব্য’ করেন। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই তিনি এই পদক্ষেপ নেন। তবে তাঁর দাবি, তিনি কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন এবং সহিংসতার পক্ষে নন।
কিশোর আরও অভিযোগ করেন, আদালত নাকি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মামলায় আলাদা মনোভাব নেয়। তাঁর বক্তব্য, “হালদওয়ানিতে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের বেআইনি দখল নিয়ে পদক্ষেপ হলে আদালত তিন বছর আগে স্থগিতাদেশ দেয়। কিন্তু যখন সনাতন ধর্মের বিষয় আসে - জল্লিকাট্টু হোক বা দই-হাঁড়ি, তখন আদালত সব সময় কিছু না কিছু নির্দেশ দেয়।”
তিনি প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের মরিশাস সফরে দেওয়া এক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন, যেখানে উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিশোর বলেন, “এত উঁচু সাংবিধানিক পদে থেকে সম্মান বজায় রাখা জরুরি। আমি আহত, এবং সেই ক্ষত রয়ে গিয়েছে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, “এটি ভারতের সাংবিধানিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রধান বিচারপতির সংযম ও ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন।
ত্রিবেদীর বক্তব্য, “সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। প্রধান বিচারপতি যেভাবে শান্তভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন, তা আমাদের গণতান্ত্রিক বিশ্বাসের পরিচায়ক।”
অন্যদিকে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম, এনসিপি-এসপি, শিবসেনা (ইউবিটি), ডিএমকে-সহ বিরোধী দলগুলোও ঘটনার নিন্দা করে একে ‘সংবিধানের ওপর আক্রমণ’ এবং ‘গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ বলে মন্তব্য করেছে।