লোকসভার অধ্যক্ষের (Lok Sabha Speaker) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অবস্থান স্পষ্ট করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

রাহুল গান্ধী, লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 10 February 2026 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভার অধ্যক্ষের (Lok Sabha Speaker) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করতে তৃণমূলের কোনও আপত্তি নেই। দলের সব ২৮ জন সাংসদই তাতে সই করবেন। তবে তার আগে ইন্ডিয়া ব্লকের (India Cloc) সব শরিককে একসঙ্গে একটি চিঠি অধ্যক্ষের কাছে পাঠানোর পক্ষে সওয়াল করেন তিনি (no-confidence motion)।
যদিও দেখা গেল তৃণমূলের 'ধীরে চলো' নীতিতে সায় দিল না কংগ্রেস। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দিল তারা। এদিন দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে সংসদের বিধি ও কার্যপ্রণালির রুল ৯৪সি অনুযায়ী ওই নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, এই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে আপাতত ১১৮ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। অধ্যক্ষের ভূমিকা ও সংসদ পরিচালনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে বিরোধী শিবির। নোটিস জমার পর বিষয়টি স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে— অনাস্থা প্রস্তাবটি সংসদের কার্যতালিকায় স্থান পায় কি না, এবং সে বিষয়ে আলোচনা হবে কি না।
যদিও এদিন সকালেই অভিষেক বলেছিলেন, অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগে অধ্যক্ষকে যুক্তিসঙ্গত ভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। সেই চিঠিতে চারটি নির্দিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হবে। যেমন— কংগ্রেসের আট জন সাংসদের সাসপেনশন নিয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো যেতে পারে। অধ্যক্ষকে দু’-তিন দিনের সময় দেওয়া হোক। ওই সময়ের মধ্যে যদি তিনি কোনও পদক্ষেপ না করেন বা সন্তোষজনক উত্তর না দেন, তবেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা উচিত।
তাঁর কথায়, আজ চিঠি পাঠানো হলে এবং পরবর্তী তিন দিনে কোনও পদক্ষেপ না করলে শুক্রবার অনাস্থা প্রস্তাব আনা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের সব সাংসদ তাতে সই করবেন। কিন্তু আজই যদি অনাস্থা প্রস্তাব আনার চেষ্টা হয়, তৃণমূল নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকবে— আগে চিঠি পাঠাতেই হবে।
সংসদের অচলাবস্থা নিয়েও সরব হন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সংসদ সচল রাখতে চায়, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার তা চায় না। সংসদ দু’বার মুলতুবি হয়েছে, অথচ অধ্যক্ষ সভায় আসেননি। গতকাল দুপুর ২টো থেকে আজ সকাল ১১টা পর্যন্ত সংসদ মুলতুবি ছিল। অভিষেকের প্রশ্ন, যদি অধ্যক্ষ সত্যিই সংসদ সচল রাখতে চান, তবে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য কেন মুলতুবি রাখা হল? এই অচলাবস্থার দায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং অধ্যক্ষ— দু’পক্ষেরই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে আলোচনার দাবিও জোরালোভাবে তোলেন তৃণমূল নেতা। তাঁর বক্তব্য, দেশের মানুষ সাংসদদের পাঠিয়েছেন তাঁদের কথা বলার জন্য। প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জিরো আওয়ারে জনগণের দাবি তুলে ধরার সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই সুযোগ দিচ্ছে না। ইন্ডিয়া ব্লকের সব শরিক এই বিষয়ে একমত বলেও জানান তিনি। অধ্যক্ষ ডাকা বৈঠকে তিনি অংশ নেবেন বলেও জানান অভিষেক।
অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি আদতে সংসদে কোনও আলোচনা চায় না। বাজেট নিয়ে আলোচনা হলে বিরোধীরা সরকারের সমালোচনার সুযোগ পাবে, তাতে সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পাবে। সেই আশঙ্কাতেই বিজেপি আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে বলে তাঁর দাবি। সংসদ সচল রাখা বিজেপি ও অধ্যক্ষ— দু’জনেরই দায়িত্ব, আর তৃণমূল চায় সংসদ স্বাভাবিকভাবে চলুক।
অনাস্থা প্রস্তাব প্রসঙ্গে অভিষেক আরও বলেন, ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। না হলে বিজেপি বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বিরোধীদের পার্থক্য থাকবে না। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতিকে কোনও সময় না দিয়েই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল সেই পথে হাঁটতে চায় না।
শেষে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও শুরুতেই আনা হয়নি। তিন মাস আগে কংগ্রেস তা প্রস্তাব করলেও তৃণমূল সব পথ খোলা রেখেছিল। বৈঠক, প্রতিবাদ, মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি, প্রতিনিধি দল পাঠানো, সবই করা হয়েছে। গত তিন মাসে ১০০ থেকে ১৫০টি চিঠি পাঠানো হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। তাই ইমপিচমেন্ট ছিল শেষ রাস্তা। একইভাবে অধ্যক্ষকেও আগে চিঠি পাঠিয়ে সময় দেওয়া হোক। তাতেও কাজ না হলে শুক্রবার কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে, এবং তাতে তৃণমূলের সব সাংসদ সই করবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।