ওই ঐতিহ্যবাহী স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও, বর্তমানে কোনও ক্যামেরাই কাজ করছে না। ফলে নজরদারির ঘাটতি নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

প্রাসাদে খোদাই গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম
শেষ আপডেট: 28 October 2025 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের (Karnataka) চিক্কবল্লাপুর জেলার নন্দিগিরিধামার ঐতিহাসিক টিপু সুলতানের (Tipu Sultan) প্রাসাদে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল। ভাঙচুরকারীরা প্রাসাদের দেওয়ালে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের (Lawrence Bishnoi) নাম খোদাই করে রেখেছে বলে জানা গিয়েছে।
‘বেঙ্গালুরু মিরর’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাসাদটি পর্যটন, উদ্যান এবং জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকলেও, ঘটনার পরও বেশ কিছুদিন কেউ বিষয়টি খেয়াল করেননি। পরে কয়েকজন পর্যটক দেওয়ালের ছবি তুলে প্রশাসনকে জানানোর পর বিষয়টি সামনে আসে।
সূত্রের খবর, ওই ঐতিহ্যবাহী স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও, বর্তমানে কোনও ক্যামেরাই কাজ করছে না। ফলে নজরদারির ঘাটতি নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও ঐতিহ্যপ্রেমীরা প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, এটি শুধু এক ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতিই নয়, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর সরাসরি আঘাত। তাঁরা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, টিপু সুলতানের এই প্রাসাদটি প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ দফতর (ASI)-এর সুরক্ষিত স্থাপনার অন্তর্ভুক্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন ও তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
আজ থেকে ২৭১ বছর আগে মহীশুরের সুলতান হায়দার আলীর ঘরে জন্ম হয় টিপু সুলতানের। মৃত্যুর বহু বছর পরও তার শাসন, সাহসিকতা, বীরত্বগাঁথা এবং ন্যায়নীতির কথা মানুষ আলোচনা করে।
কিন্তু কিছু সময়ের জন্য, বিজেপি নেতারা এবং ডানপন্থী মতাদর্শের ইতিহাসবিদরা টিপু সুলতানকে একজন নিষ্ঠুর এবং হিন্দু বিরোধী মুসলমান সুলতান হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছেন। টিপুকে হিন্দুদের গণহত্যাকারী শাসক হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।
বস্তুত, কোডাগু এবং মালাবার উভয় জায়গা থেকেই টিপু স্থানীয় বাসিন্দাদের চলে যেতে বাধ্য করেছিলেন। কারণ, ওই অঞ্চলের বাসিন্দা নায়ার এব খ্রিস্টানরা টিপুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। কিন্তু, এর জেরে ওই বাসিন্দা অ্যাংলো-মহীশূর যুদ্ধে টিপুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। শুধু তাই নয়, টিপু স্থানীয় হিন্দু শাসক এবং প্রজাদের ওপর কড়া সামরিক শাসন প্রয়োগ করেছিলেন। পাশাপাশি, হিন্দু শাসকদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালিয়েছিলেন। যে কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় গোঁড়ামির অভিযোগ ওঠে।
২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের সময়ই নতুন করে টিপু সুলতান বিতর্ক হয় কর্নাটকে। দক্ষিণ ভারতের একমাত্র বিজেপি শাসিত রাজ্যের একটি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর তরফে অষ্টাদশ শতকের মহীশূরের (বর্তমান মাইসুরু) সুলতান টিপু সুলতানের নামাঙ্কিত একটি সড়ক সংযোগের (সার্কল) নাম বদলের দাবি তোলা হয়েছিল।