নিজ দফতরের বিরুদ্ধে ‘ঘুষখোরদের সুবিধা’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কন্ট্রোল রুমের ভিতরেই আত্মঘাতী হলেন এক হেড কনস্টেবল। ঘটনার তদন্তে সেই ডিপার্টমেন্টই!

হেড কনস্টেবল
শেষ আপডেট: 10 February 2026 08:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কন্ট্রোল রুমে ঢুকে আত্মঘাতী হলেন মধ্যপ্রদেশ পুলিশের হেড কনস্টেবল (Head Constable) হোশিয়ার সিং আহির (Hoshiar Singh Ahir)। বয়স ৫০। মুখে বিষাক্ত তরল ঢেলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হয়।
তাঁর জামার পকেট থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট (Suicide Note)। দুর্নীতি, ঘুষ, সিনিয়রদের হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়েছে সেখানে। মৃতের পরিবারও বিষয়টির সঙ্গে একমত। দাবি তুলেছেন সঠিক তদন্তের। যদিও পাল্টা নিমুচের এসপি (SP) অঙ্কিত জয়সওয়াল (Ankit Jaiswal) জানিয়েছেন, হোশিয়ারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপান আর মদের নেশায় কর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, হোশিয়ার সিংয়ের বাড়ি হরিয়ানায়। কর্মরত ছিলেন কানাওয়াটি পুলিশ লাইনে (Kanawati Police Line)। শারীরিক অসুস্থতার জন্য পাঁচ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। সোমবার কাজে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগের দিন, রবিবার দুপুরে আচমকাই নিমুচ জেলার পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ঢুকে পড়েন। সহকর্মীরা কিছু বোঝার আগে ছোট একটি শিশি থেকে বিষাক্ত তরল মুখে ঢেলে দেন। সঙ্গে সঙ্গেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন মাটিতে।
হইচই পড়ে যায় কন্ট্রোল রুমে। দ্রুত তাঁকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্থানান্তর করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই মৃত্যু হয় হোশিয়ারের। পরে তাঁর জামার পকেট থেকে উদ্ধার হয় সুইসাইড নোট। তাতে স্পষ্ট অভিযোগ, “ব্যবস্থায় মরচে ধরেছে। যারা ঘুষ দেয়, তারাই সুবিধা পায়। সৎ কর্মীদের হয়রানি করা হয়।” নোটে কয়েকজন পুলিশ কর্তার নামও উল্লেখ করেছেন তিনি। এমনকি লিখেছেন, “এভাবে চললে আমাকে দয়া করে আত্মহত্যার অনুমতি দিন।”
পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার আগে নোটের একটি কপি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও পাঠিয়েছিলেন হোশিয়ার। তাতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
স্বামীর মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী কমলেশ বাই (Kamlesh Bai)। তাঁর অভিযোগ, ময়নাতদন্তের পরে স্বামীর মৃতদেহের পাশে থাকতে দেওয়া হয়নি। এমনকী হোশিয়ারের মোবাইলও “গায়েব” হয়ে গিয়েছে। একই অভিযোগ মেয়ে অঞ্জলিরও (Anjali)। তিনি বলেন, “বাবার চারবার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তারপরেও ভারী কাজ দেওয়া হতো। মানসিক চাপ বেড়েই চলছিল দিন দিন। বাবা চলেই গেল।”
নিমুচের এসপি অঙ্কিত জয়সওয়াল জানিয়েছেন, সুইসাইড নোটটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্নীতি বা হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত হেড কনস্টেবলের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।