
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 February 2025 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যারা পশুখাদ্য খেয়ে হজম করে ফেলতে পারে, তারা কোনওদিন কৃষকদের দুর্দশা দূর করতে পারে না। সোমবার বিহারের ভাগলপুরে এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবকে এই ভাষাতেই একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এনডিএ সর্বদা কৃষক কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে দাবি করে মোদী বলেন, আমি সবসময় দরিদ্র, অন্নদাতা, যুবসমাজ ও নারীদের গণতন্ত্রের চার স্তম্ভ মনে করেছি।
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস হোক কিংবা জঙ্গলরাজ, কৃষকদের সমস্যা ওদের কাছে কোনও ব্যাপার নয়। আগে যখন বন্যা বা খরা হত কিংবা বজ্রপাতে মৃত্যু হত, এই লোকগুলি কৃষকদের তাঁদের ভাগ্যের উপরে ছেড়ে দিত। ২০১৪ সালে আপনারা যখন এনডিএ-কে আশীর্বাদ দিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমি বলেছি আমাদের সরকার এরকম হবে না। এনডিএ সরকার প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা নিয়ে এসেছে। যাতে বিপর্যয়ের সময়ে কৃষকদের ১.৭৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আমি যেই মাত্র বোতাম টিপলাম অমনি দেশ জুড়ে ৯.৮ কোটি কৃষকের অ্যাকাউন্টে ২২ হাজার কোটি টাকা ঢুকে গেল। আমি দেখেছি কীভাবে মানুষ তাঁদের মোবাইলে অ্যাকাউন্ট চেক করে নিচ্ছেন। তাঁদের চোখেমুখে হাসির ঝিলিক খেলে যাচ্ছে। শুধুমাত্র বিহারেই এই প্রকল্পে ৭৫ লক্ষ কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন মোদী।
সোমবার বিহারের ভাগলপুরে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে পাশে নিয়ে কৃষকদের ১৯-তম কিস্তির টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিশেষ বিমানে পূর্ণিয়া পৌঁছে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ৯০ কিমি দূরের ভাগলপুর যান। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী তথা এনডিএ শরিক দলনেতা জেডিইউয়ের নীতীশ কুমার তাঁকে স্বাগত জানান। মূল মঞ্চ থেকে হেলিপ্যাডটি ছিল কয়েকশো মিটার দূরে। খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে মোদী ও নীতীশ কার্যত রোড শোয়ের ধাঁচে অনুষ্ঠান মঞ্চে আসেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মাখানা দিয়ে তৈরি বিশাল মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
মঞ্চে এসে মোদী বোতাম টিপে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার ১৯-তম যোজনার টাকা দেন। এছাড়াও বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। মোদীর এদিনের বিহার সফর ছিল কার্যত রাজ্য বিধানসভা ভোটের আগে এনডিএ-র শক্তি প্রদর্শন ও মহড়া। প্রায় দুদশক ধরে এনডিএ পাটলিপুত্রের সিংহাসনে রয়েছে। এবারের ভোটে জিতলে নীতীশ কুমার পঞ্চমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ২০০৫ সাল থেকে বিজেপির হাত ধরে এই রাজ্য ক্ষমতায় রয়েছেন নীতীশ। এর মধ্যে অবশ্য বার দুয়েক আরজেডি-র সঙ্গে ভোলবদলু হয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে গিয়েছেন।
বিহার হল দেশে মাখানা উৎপাদনে শীর্ষে। সম্প্রতি বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বিহারে মাখানা বোর্ড স্থাপনের প্রস্তাব এনে ভোটের বাজি এগিয়ে রাখেন বলে বিরোধীদের মত। এদিকে, মোদীর আগমনের বিরোধিতায় নির্দল এমপি রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব সীমাঞ্চল-কোশী এলাকাকে উপেক্ষার প্রতিবাদে এদিন পূর্ণিয়া লোকসভা কেন্দ্র এলাকায় বনধের ডাক দিয়েছিলেন।
গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪০টি আসনের মধ্যে ৩০টিতে জিতেছিল এনডিএ। কিন্তু, এ বছরের শেষে হতে চলা বিধানসভা ভোটে ২০ বছরের সরকার বিরোধী হাওয়াকে বাগে আনতে এখন থেকেই প্রচারের পালে হাওয়া লাগালেন মোদী। বিহারে আসার আগে মোদী ছিলেন মধ্যপ্রদেশে। সেখানে ছত্তরপুরে বাগেশ্বর ধাম মেডিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্স রিসার্চ সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।