তিনি ছবিটিকে “বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রযোজনা” বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, এতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তি নেই, বরং সমাজে বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যই স্পষ্ট। তারুর বলেন, আমাদের দেশ অত্যন্ত বড়।

কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর।
শেষ আপডেট: 20 February 2026 10:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুক্তি আসন্ন ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ ছবিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই তীব্র সমালোচনায় সরব হলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। তিনি ছবিটিকে “বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রযোজনা” বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, এতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তি নেই, বরং সমাজে বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যই স্পষ্ট। তারুর বলেন, “আমাদের দেশ অত্যন্ত বড়। কোথাও-সেখানে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেই তাকে বড় করে দেখিয়ে প্রচারের হাতিয়ার বানানো ঠিক নয়। মানুষের মনে ঘৃণা ছড়ায় এমন এবং তাও যদি ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে হয়, সেসব কথা বলার মানে কী?” অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের ছোটবেলায় অমর আকবর অ্যান্টনির মতো ছবি বিনোদন করমুক্ত হতো,” কারণ সেই সময়ের সিনেমা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিত।
ছবির মূল দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর কথায়, হাজার হাজার মানুষকে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে, এমন প্রচার অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর। “প্রথম ছবিটি ছিল বিদ্বেষমূলক। এর কোনও ভিত্তি ছিল না। বলা হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ ধর্মান্তরিত হয়েছে, যা সত্য নয়। কয়েক বছরের হিসেবে মোটামুটি ৩০টির মতো ঘটনা ছিল,” সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি।
এদিকে, সর্বভারতীয় মুসলিম জামাতও ছবিটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে। সংগঠনের সভাপতি মৌলানা শাহবুদ্দিন রাজভি বরেলৈভি দাবি করেছেন, ছবিটি ভুয়ো বয়ানের উপর দাঁড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হানে। তাঁর অভিযোগ, মুনাফার লক্ষ্যে নির্মাতাদের একাংশ সামাজিক দায়বদ্ধতার চেয়ে উসকানিমূলক কাহিনিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। রজভি বলেন, “আজকাল যেভাবেই হোক অর্থ উপার্জনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এসব ছবি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করছে। মুসলিমদের বদনাম করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এগুলি করা হচ্ছে।”