দ্য কেরালা স্টোরি ২ (The Kerala Story 2 trailer)–এর ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পরপরই বিতর্কের ঝড় ওঠে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন (Kerala CM Pinarayi Vijayan) ছবিটিকে রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের (secular values) জন্য ভয়ঙ্কর বলে আখ্যা দেন।

দ্য কেরালা স্টোরি ২ (The Kerala Story 2 release date) আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
শেষ আপডেট: 19 February 2026 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan) জানিয়েছেন, দ্য কেরালা স্টোরি ২ (The Kerala Story 2) একটি প্রচারমূলক ছবি (propaganda film) এবং তিনি রাজ্যের মানুষকে এই সিনেমা দেখা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্য কেরালা স্টোরি ২ (The Kerala Story 2 trailer)–এর ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পরপরই বিতর্কের ঝড় ওঠে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন (Kerala CM Pinarayi Vijayan) ছবিটিকে রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের (secular values) জন্য ভয়ঙ্কর বলে আখ্যা দেন। এক বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, মুক্তি আসন্ন এই চলচ্চিত্র কেরলের ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে (religious harmony in Kerala) ক্ষুণ্ণ করতে পারে, যা তাঁর মতে রাজ্যের পরিচয়ের মৌলিক ভিত্তি।
বিজয়ন বলেন, ছবির প্রথম ভাগের (The Kerala Story first part) উদ্দেশ্য ছিল “রাজ্যের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং তার ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যকে দুর্বল করা।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই দেশ বুঝতে পেরেছিল যে প্রথম অংশটি, যা মিথ্যা, বিদ্বেষ এবং কেরল-বিরোধী প্রচারণায় (anti-Kerala propaganda) ভরা ছিল, তা সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য (communal motives) নিয়ে নির্মিত হয়েছিল।” দ্বিতীয় অংশে জোরপূর্বক ধর্মান্তর (forced religious conversion)–এর ঘটনাগুলি তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, এবং একাধিক মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে যে ছবিটি আবারও প্রচারমূলক এজেন্ডা (propaganda allegations) এগিয়ে নিচ্ছে।
ফেসবুকে (Facebook statement) শেয়ার করা তাঁর বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “সমাজে বিভাজন ও ঘৃণা ছড়ানোর জন্য নির্মিত বিষাক্ত কাজ (divisive content) কেন জনসমক্ষে প্রদর্শনের অনুমতি পায়?” বিশেষত যখন ‘বিফ’ (Beef) নামের একটি স্প্যানিশ ছবি (Spanish film) কেবল নামের কারণে উৎসবে প্রদর্শন থেকে বাদ পড়েছে। তিনি আরও লেখেন, “পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া বিবাহকেও (interfaith marriage portrayal) সাম্প্রদায়িকতা ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে মিথ্যা প্রচার (false propaganda) চালানো হচ্ছে,”—ছবিতে বিধর্মে বিবাহ সম্পর্কের (interfaith relationships) উপস্থাপনাকে তিনি এভাবেই সমালোচনা করেন।
বিজয়ন সতর্ক করে বলেন, বাইরের কিছু শক্তি (outside forces) কেরলের প্রতিষ্ঠিত শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, “এই শক্তিগুলি কেরলের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন। এমন এক রাজ্য, যেখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (communal riots) নেই এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ঐতিহ্য রয়েছে।” তাঁদের ‘রাজ্যের শত্রু’ (enemies of the state) আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তারা রাজ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা (peace and tranquillity) ধ্বংসের চেষ্টা করছে।
তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের সম্মিলিতভাবে সেই সব প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করতে হবে, যা কেরলকে একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির ভূমি (land of religious harmony), স্থায়ী উন্নয়নে (sustainable development model) অগ্রণী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় (law and order model state) দৃষ্টান্ত হিসেবে কালিমালিপ্ত করতে চায় এবং সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র (terrorism narrative) হিসেবে চিত্রিত করতে চায়। কেরলের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি (secular foundation) যাতে মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। ধর্মনিরপেক্ষতা (secularism) ও ভ্রাতৃত্ববোধ (brotherhood values) রক্ষা করেই আমাদের এই অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।”
দ্য কেরালা স্টোরি (The Kerala Story film)–এর প্রথম ছবিতে অভিনয় করেছিলেন আদা শর্মা (Adah Sharma), সোনিয়া বালানি (Sonia Balani), যোগিতা বিহানি (Yogita Bihani) এবং সিদ্ধি ইদনানি (Siddhi Idnani)। নিষেধাজ্ঞা (film bans) ও বিতর্ক সত্ত্বেও ছবিটি বক্স অফিসে (box office success) সাফল্য পায়। পরিচালক সুদীপ্ত সেন (Sudipto Sen) এই ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (National Film Award Best Director)–এ শ্রেষ্ঠ পরিচালকের সম্মান পান। প্রশান্তনু মহাপাত্র (Prasantanu Mohapatra) শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক (Best Cinematography Award) হিসেবে সম্মানিত হন।
দ্য কেরালা স্টোরি ২ (The Kerala Story 2 release date) আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন উল্কা গুপ্তা (Ulka Gupta), ঐশ্বর্যা ওঝা (Aishwarya Ojha) এবং আদিতি ভাটিয়া (Aditi Bhatia)।