বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে দুটি নতুন সেনা ঘাঁটি গড়ে তুলছে ভারত।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 8 November 2025 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ লাগোয়া অসমের ধুবড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরে চোপড়ায় নতুন দুটি সেনা ঘাঁটি তৈরি করছে ভারত। চোপড়ার সেনা ঘাঁটিটি ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে ধুবড়িতে নতুন সেনা ঘাঁটির শিলান্যাস করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান তথা জিওসি ইন সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি। তিনি ধুবড়ির নতুন সেনা ঘাঁটিও পরিদর্শন করেছেন। দু জায়গাতেই দীর্ঘ বৈঠক করেছেন সেনা কর্তাদের সঙ্গে।
বাংলাদেশে গতবছর পদ পরিবর্তনের পর ভারতীয় সেনার সীমান্ত লাগিয়া এলাকায় নতুন সেনা ঘাঁটি তৈরির সিদ্ধান্তকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল। জানা যাচ্ছে খুব দ্রুত নতুন ঘাঁটি দুটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দুটি ঘাঁটিই উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি লাগোয়া স্পর্শকাতর এলাকা চিকেন নেক থেকে সামান্য দূরে। স্থল ও আকাশপথে যে দূরত্ব মোটেই বেশি নয়।
গতবছর বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেদেশের সেনাবাহিনীর তৎপরতা নয়া মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে দেশটির উত্তর প্রান্তের দুটি পরিত্যাক্ত বিমান ঘাঁটিকে কার্যকর করে তোলার সিদ্ধান্তকে ভারত যথেষ্ট সন্দেহ চোখে দেখছে। লালমনিরহাট এবং ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থিত সেনা বিমানবন্দর দুটি দফায় দফায় সফর করছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন অফিসারেরা। সপ্তাহ দুই আগে এই দুটি বিমান ঘাঁটি পরিদর্শনে যান বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। এর পাশাপাশি চিন ও পাকিস্তানের সেনাকর্তাদের ঘনঘন বাংলাদেশ সফরকেও সন্দের চোখে দেখছে নয়া দিল্লি। জেট বিমানের গতিতে এগোচ্ছে এই তিন দেশের সেনাবাহিনীর সম্পর্ক যা ভারতের জন্য উদীয়মান সামরিক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বাংলাদেশের এই তৎপরতার পেছনে রয়েছে চিন ও পাকিস্তানের ভারত অঙ্ক। ভারতের পূর্বাঞ্চলকে সামরিক দিক থেকে আরও ব্যস্ত রাখা তাদের কৌশল। সেই কৌশলে সহযোগী ভূমিকা নিতে চলেছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেশী তিন দেশের এই মনোভাব আজকের এই ভারতীয় সেনাবাহিনীও নতুন করে তাদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। ইতিমধ্যে ত্রিপুরায় ভারতীয় সেনার একটি পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটি পুনরায় চালু করা তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
ভারতের সেনা কর্তারা মনে করছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে পরবর্তী যুদ্ধ বিবাদে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতীয় সেনা বাহিনীর তৎপরতা ছিল ভিন্ন। পূর্বাঞ্চল নিয়ে সেনাবাহিনী যথেষ্ট স্বস্তিতে ছিল। কিন্তু হাসিনা সরকারের পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একদিকে সরকারের মনোভাব বদলেছে, অন্যদিকে ভারত বিরোধী শক্তি ও প্রবল ভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে দেশটিতে। যা ভারতে সুরক্ষার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পূর্বাঞ্চলের সেনা সদর ফোর্ট উইলিয়াম এক বিবৃতিতে বলেছে, পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি চোপড়া সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন ব্রহ্মাস্ত্র কর্পসের সৈন্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে ঘাঁটি নির্মাণ ও পরিচালনায় সেনাদের পেশাদারিত্ব, উৎসাহ এবং নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি। সৈন্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার এবং উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান লেফট্যানেন্ট জেনারেল তিওয়ারি।