
রাজকোটে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে, এখনও নিখোঁজ বহু
শেষ আপডেট: 27 May 2024 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার বছর ধরে আপনারা ঘুমোচ্ছিলেন নাকি? গুজরাতের রাজকোটে অগ্নিকাণ্ডে ৩৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার এই ভাষাতেই শহরের পুরসভা এবং রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল গুজরাত হাইকোর্ট। এই ঘটনাকে মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয় বলে বর্ণনা করে হাইকোর্ট বলেছে, বেআইনিভাবে ২ বছর ধরে অনুমোদনহীন দুটি গেমিং জোন শহরের বুকে কী করে চলতে পারে?
প্রসঙ্গত, রাজকোটে গেমিং জোন অগ্নিকাণ্ডে ৯ শিশুসহ ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ জনের বেশি মানুষের খোঁজ মিলছে না। যা নিয়ে রাজ্য এবং গোটা দেশ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। এ সম্পর্কিত একটি আর্জিতে আদালতে জানানো হয়েছে যে, গেমিং সেন্টারগুলি চলছিল বেআইনিভাবে নির্মিত বাড়িতে। এবং অগ্নিনির্বাপণের কোনও ব্যবস্থাই সেখানে ছিল না।
একথা শুনে হাইকোর্ট রাজকোট পুরসভাকে বলেছে, আপনারা কি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন? আপনারা কি ঘুমিয়ে ছিলেন? আমাদের স্থানীয় পুরসভা এবং রাজ্য সরকারের উপর আর কোনও ভরসা বা আস্থা নেই।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওখানে প্রচুর পরিমাণে অতিদাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। যার ফুলকি থেকেই আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা। গেমিং জোনের ৬ মালিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ২ জন গ্রেফতার হলেও বাকিরা পলাতক।
এদিকে, গুজরাত সরকার সোমবার ৬ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে। সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উপযুক্ত অনুমতি ছাড়া এই গেমিং জোন চালাতে দেওয়ার গুরুতর গাফিলতির দায়ে তাঁদের সাসপেন্ড করা হল। তাঁরা হলেন রাজকোট পুরসভার নগর পরিকল্পনা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জয়দীপ চৌধুরি, সহকারী নগর পরিকল্পক গৌতম জোশি, রাজকোট সড়ক এবং বিল্ডিং বিভাগের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এম আর সুমা এবং পরশ কোঠিয়া এবং দুই পুলিশ আধিকারিক।