আদালত নির্দেশ দেয়, অনিলের অভিযোগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি একসঙ্গে শুনানি করতে হবে। ফলে দুই মামলাই দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে চলতে থাকে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 March 2026 21:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫ টাকায় ৪টে ফুচকা (foochka) না ৫টা? এই থেকেই তর্ক শুরু। তারপর হাতাহাতি। শেষমেশ ঘটনা গড়াল আদালতে। একজনের ৩ বছর জেল হল। আদালতের দরজায় দরজায় ঘুরতে হল ১২ বছর। ১৫ জন সাক্ষী, একাধিক পুলিশকর্তার বদলি অবসর, পাল্টা মামলা মায় অদ্ভূত চিত্রনাট্য তৈরি হল সেই একটা ফুচকাকে নিয়ে।
অবশেষে বুধবার হরিয়ানার মাহাম আদালত এই মামলায় দুই পক্ষের মোট ৯ জন অভিযুক্তকেই প্রমাণের অভাবে খালাস করে দিয়েছে।
কীভাবে শুরু হয়েছিল ফুচকা কাণ্ড?
ঘটনাটি ২০১৩ সালের ২১ মে। হরিয়ানার (Haryana News) মাহাম শহরের রাজীব চক এলাকায় একটা ফুচকার ঠেলাগাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অনিল নামে এক যুবক প্রশ্ন করেন—পাঁচ টাকায় চারটি ফুচকা কেন দেওয়া হচ্ছে, যেখানে অন্য দোকানে পাঁচটি করে দেওয়া হয়।
দোকানদার সুবে সিং নিজের নিয়মে অনড় থাকেন। বলেন, আমার দোকান, আমার ফুচকা, আমার দাম। পোষালে খান নইলে চলে যান। ব্যস শুরু কথা কাটাকাটি। একসময়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়। দোকানদারের অভিযোগের ভিত্তিতে অনিল ও তাঁর দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে হামলার মামলা হয়।
কিন্তু অনিলের দাবি ছিল উল্টো। তিনি অভিযোগ করেন, দোকানদার এবং পাশের আরেক বিক্রেতা তাঁকে মারধর করেছেন। এমনকি কয়েকজন পুলিশকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
পরে অনিলের বাবা সত্যবান মাহাম আদালতে একটি ব্যক্তিগত ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন, যেখানে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে স্থানীয় থানার তৎকালীন স্টেশন হাউস অফিসারও ছিলেন।
এর মধ্যে অনিলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় মাহাম আদালত তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়। তবে তিনি রোহতক সেশনস কোর্টে আপিল করলে সেখান থেকে খালাস পান।
এরপর আদালত নির্দেশ দেয়, অনিলের অভিযোগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি একসঙ্গে শুনানি করতে হবে। ফলে দুই মামলাই দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে চলতে থাকে।
মামলার শুনানিতে মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালত জানায়, দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে সব অভিযুক্তকেই খালাস দেওয়া হয়।
তবে ফুচকা বিতর্কের আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। অনিলের বাবা জানিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে আপিল করবেন।
এই মামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন পুলিশকর্তা ইতিমধ্যেই অবসর নিয়েছেন বা অন্যত্র বদলি হয়েছেন। আর সেই ফুচকা বিক্রেতা এখনও দোকান চালান কি না, কিংবা এখন পাঁচ টাকায় কটি ফুচকা বিক্রি করেন—তা অবশ্য আর জানা যায়নি।