রশিদির যুক্তি, যদি বাবরের নামে মসজিদ (Babri Mosque) গড়ে ওঠে, তাতেও সংবিধানের কোনও ধারা লঙ্ঘিত হয় না।

অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌলানা সাজিদ রশিদি
শেষ আপডেট: 7 December 2025 21:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল (TMC) থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) ইস্যুকে ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে চর্চার শেষ নেই। এবার সেই ইস্যুতে সরাসরি মন্তব্য করলেন অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের (All India Imam Association President) সভাপতি মৌলানা সাজিদ রশিদি (Maulana Sajid Rashidi)। তাঁর কথায়, দেশের শাসনব্যবস্থা ধর্মগ্রন্থ নয়, সংবিধানই চালায়। তাই কারও আপত্তি থাকলেও সংবিধান যে ধর্মস্থাপনা নির্মাণের অধিকার দেয়, তা স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন তিনি।
রশিদির যুক্তি, যদি বাবরের নামে মসজিদ (Babri Mosque) গড়ে ওঠে, তাতেও সংবিধানের কোনও ধারা লঙ্ঘিত হয় না। রাজনৈতিক টানাপড়েনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও তোপ দাগেন তিনি। অভিযোগ করেন, এই ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি রাজনীতি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তাঁর প্রশ্ন, “যদি এটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বলে ধরা হয়, তা হলে তাঁকেই বা গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন?”
২০২১ সালে তৃণমূলের বিধায়ক হয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে দলের রোষানলে পড়েছেন হুমায়ুন। বার বার তাকে শো কজ় করা হলে, ক্ষমাপ্রার্থনা করে আবার স্বমহিমায় নানা বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বহাল তবিয়তে থেকেছেন তিনি। কিন্তু নিজের জেলায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘোষণা করার পর ৩ ডিসেম্বর হুমায়ুনকে দলবিরোধী কাজের জেরে আজীবন সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। তাতেও অনড় হুমায়ুন গত ৬ ডিসেম্বর, সংহতি দিবসে বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন।
শনিবার বেলা ১২টা থেকে শিলান্যাসের মূল পর্ব শুরু হলেও, অনুষ্ঠানস্থলে সকাল ১০টা থেকেই শুরু যায় যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা। আয়োজকদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা জায়গা থেকে বহু ইসলাম ধর্মগুরু এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ভিড় এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা সামলাতে শুক্রবার থেকেই প্রায় দু' হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। পুরো আয়োজনের খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৬০–৭০ লক্ষ টাকা।
শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা হুমায়ুনের সঙ্গে বসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সেই মতো শনিবারের এই অনুষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয় শুধু মাত্র নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে। শেষে, মসজিদের ভিতের প্রথম ইট গেঁথে হুমায়ুন বুঝিয়ে দিয়েছেন, কথা মানে কথা। মসজিদ হচ্ছেই।