
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 January 2025 11:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ম-সাধনা বা ধর্মীয় কোনও অনুষ্ঠানে কিংবা ধর্মের জন্য মাইক বাজানো জরুরি নয়। অর্থাৎ তারস্বরে মাইক বাজানোর সঙ্গে ধর্মের কোনও ওতপ্রোত সম্পর্ক নেই বলে পুলিশকে জানিয়ে দিল আদালত। শুধু তাই নয়, পুলিশকে এ ব্যাপারে আগাম পদক্ষেপেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার বম্বে হাইকোর্ট একটি মামলার শুনানিতে বলে, কোনও ধর্মেই লাউডস্পিকার বাজানো অত্যাবশ্যক অংশ নয়। একইসঙ্গে আদালত মহারাষ্ট্র পুলিশকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাইক বাজানো রোধে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত রাজ্য সরকার ও পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে বলেছে যে, লাউডস্পিকার ও বক্স আইটেমে অভ্যন্তরীণ নির্মাণ-প্রযুক্তি কৌশল প্রয়োগ করে শব্দের উচ্চমাত্রা বা ডেসিবেল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ধর্মনিরপেক্ষভাবে সমস্ত প্রার্থনাস্থল, মন্দির-মসজিদ-গির্জায় শব্দ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার অথবা সেখানকার মাইকগুলিতে এমন কোনও যন্ত্র বসাতে হবে যাতে আওয়াজ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি এএস গড়করি ও এসসি চন্দকের বেঞ্চ বলে, এই নির্দেশ ও শব্দআইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা পুলিশের আছে। শব্দদূষণ বিধি, ২০০০ প্রয়োগ ও কঠোরভাবে তা মান্য করার অধিকার পুলিশকে দেওয়া আছে। ফলে লাউডস্পিকার চালিয়ে কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অধিকার নেই পরিবেশে শব্দদূষণ ঘটানো।
আদালত আরও বলে, সাধারণত এলাকার বাসিন্দারা ভয়ে-ভীতিতে কোনও অভিযোগ করেন না। যতক্ষণ না সেই আওয়াজ তাঁদের পক্ষে অসহ্য এবং বরদাস্ত করার বাইরে না চলে যায়, ততক্ষণ মানুষ তা মেনে নিয়ে থাকেন। কিন্তু, আমরা মনে করি, অভিযোগ পর্যন্ত অপেক্ষাই নয়। পুলিশকে নির্দিষ্ট অভিযোগের আগেই আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
দুই সদস্যের বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে দেওয়া নির্দেশে জানিয়েছে, পুলিশের হাতে ডেসিবেল মাপার যন্ত্র দিতে হবে। যাতে তারা যেখানেই মাইক বাজবে, সেখানেই সেই যন্ত্র নিয়ে গিয়ে শব্দদূষণের মাত্রা মাপতে পারে। পুলিশকে ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বেঞ্চ আরও বলেছে, যেখানেই এরকম ঘটনা ঘটবে, সেখানেই তারা ব্যবস্থা নিতে পারে। এরজন্য তারা ওই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাইক ব্যবহারের অনুমতিও প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
জাগো নেহরু নগর রেসিডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের একটি আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি চলছিল হাইকোর্টে। সংগঠনের আইনজীবী কৌশিক মাহত্রে একটি আর্জিতে জানিয়েছিলেন, পূর্ব কুরলার নেহরু নগর ও চুনাভাট্টি এলাকায় বেশ কয়েকটি মসজিদ এবং মাদ্রাসা রয়েছে। মসজিদগুলিতে লাউডস্পিকার লাগানো আছে। যেগুলির আওয়াজ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অসহ্য হয়ে উঠছে। সকাল ৫টা থেকে অর্থাৎ যে সময় মাইক বাজানো আইনত নিষিদ্ধ, সে সময়ে এবং উৎসবের সময় রাত দেড়টা পর্যন্ত মাইক বাজানো হয়ে থাকে। এসবই বিধিবদ্ধ শব্দমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জোরে।
মাহত্রে দৃষ্টান্ত দিয়ে আদালতে জানান, চুনাভাট্টি বা নেহরু নগর থানায় বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বেঞ্চ সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পর্যবেক্ষণে বলে, মুম্বই হল একটি মিশ্র জনজাতির শহর। এই শহরের কোনায় কোনায় বিভিন্ন ভাষা-ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। আবেদনকারীদের আর্জি শব্দদূষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এমনকী এই আদালতেরও আগের নির্দেশগুলি কার্যকর করা হোক।