ভারতে টেসলা মডেল Y-এর আত্মপ্রকাশ, দাম শুরু ৬১ লাখ থেকে। কী কী থাকছে, কতটা কার্যকর স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং, ও প্রতিদ্বন্দ্বীরা কারা, জানুন বিস্তারিত।

টেসলা মডেল ওয়াই।
শেষ আপডেট: 16 July 2025 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতে প্রবেশ করেছে বিশ্ববিখ্যাত ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেসলা ভারতের বাজারে আত্মপ্রকাশ করল একটি সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারি হিসেবে, যার প্রথম শোরুম চালু হয়েছে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্সে।
কয়েক মাস ধরে জল্পনা চলছিল টেসলা ভারতে তাদের সস্ততম মডেল ৩ (Model 3) দিয়ে সূচনা করবে কিনা। কিন্তু অবশেষে দেখা গেল, মডেল ৩ নয়, বরং টেসলা তাদের বেশি প্রিমিয়াম ও অফ-রোড উপযোগী মডেল Y দিয়েই ভারতে যাত্রা শুরু করেছে।
এই মডেলটিতে রয়েছে আরও বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, যা ভারতের রাস্তায় চলাচলের জন্য উপযুক্ত। মডেল Y-এর দুটি ভার্সন পাওয়া যাচ্ছে— স্ট্যান্ডার্ড RWD (রিয়ার হুইল ড্রাইভ)। এর দাম ৬১ লাখ ৭ হাজার টাকা (অন-রোড), রেঞ্জ ৫০০ কিমি। এবং লং রেঞ্জ RWD। এটির দাম ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা (অন-রোড), রেঞ্জ ৬২২ কিমি।
উভয় ভার্সনেই রয়েছে ১৫.৪ ইঞ্চির বিশাল টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে। স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণে রয়েছে ৬০ কিলোওয়াট ব্যাটারি, আর লং রেঞ্জ সংস্করণে দেওয়া হয়েছে ৭৩ কিলোওয়াট ব্যাটারি।
টেসলার কার কনফিগারেশন যথেষ্ট সরল হলেও, অপশনাল ফিচারগুলি একেবারেই সস্তা নয়। ভারতের টেসলা ওয়েবসাইটে মডেল Y-এর জন্য ছ'টি রঙের অপশন রয়েছে, যার মধ্যে শুধু ছাই রংটি বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। বাকিগুলোর দাম হল: পার্ল হোয়াইট বা ডায়মন্ড ব্ল্যাকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১ লক্ষ টাকা। কুইক সিলভার বা আল্ট্রা রেডের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা। ভিতরে পুরো সাদা লেদার দিয়ে মোড়া ডিজাইন চাইলে, অতিরিক্ত ৯৫ হাজার টাকা।
অর্থাৎ, যাঁরা পুরোদমে কাস্টমাইজড বিলাসবহুল অভিজ্ঞতা চান, তাঁদের পকেট কিছুটা হালকা হবেই।
টেসলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তাদের অটোপাইলট ও FSD (Full Self-Driving) প্রযুক্তি, যা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই রয়েছে। তবে ভারতের বাজারে এমনটা নেই। এই প্রথম কোনও গাড়ি প্রস্তুতকারক সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় চালনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি নিজে নিজেই রাস্তা চিনতে পারে, লেন পরিবর্তন করতে পারে, এমনকি ওভারটেকও করতে পারে। কিন্তু চালককে অবশ্যই স্টিয়ারিংয়ে বসে উপস্থিত থাকতে হবে এবং যে কোনও সময় নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তবে একটি বড় শর্ত রয়েছে। সেটি হল, এই প্রযুক্তি এখনও ভারতের সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এখনও পর্যন্ত এটি চালুর জন্য কোনও নির্দিষ্ট টাইমলাইনও নেই। কারণ ভারতের জটিল ও অনিয়মিত ট্রাফিক পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এই FSD প্রযুক্তির দাম ৬ লাখ টাকা এবং এটি উভয় ভার্সনেই (RWD ও AWD) পাওয়া যাবে।
মডেল Y ভারতে আসছে CBU (Completely Built Unit) হিসেবে, যার উপর সরকারের তরফে আমদানি শুল্ক ৭০ শতাংশ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বাজারে এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে:
হুন্ডাই আইকনিক ৫, যার দাম ৪৫ লাখ টাকা। ব্যাটারি প্রায় টেসলার সমান, তবে শক্তি কম।
কিয়া ইভি৯, যার দাম ৬৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ব্যাটারি ৮৪ কিলোওয়াট, টর্ক ৬০৫ Nm (টেসলার তুলনায় বেশি)।
বিএমডব্লিউ iX1-ও একটি প্রতিদ্বন্দ্বী, যার দাম ৪৯ লাখ টাকা।
তবে স্টোরেজ স্পেসে টেসলা এগিয়ে। ৮২২ লিটার রিয়ার স্টোরেজ ও ১১৬ লিটার ফ্রাঙ্ক (ফ্রন্ট ট্রাঙ্ক) সুবিধা দেয়, যা অন্য কোনও গাড়িতে নেই। স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং ও ব্র্যান্ড কেশেটের দিক থেকেও টেসলা এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
ভারতে মডেল Y বুক করার জন্য যেতে হবে Tesla India-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। প্রথমে একটি ২২ হাজার কার নন-রিফান্ডেবল ডিপোজিট দিতে হবে। এরপর সাত দিনের মধ্যে আরও ৩ লাখ টাকা অ্যাডভান্স পেমেন্ট দিতে হবে।
ভারতের ইভি মার্কেটে টেসলার প্রবেশ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। যদিও প্রতিযোগিতা তীব্র এবং দামও অনেকটাই বেশি, তবুও যারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, ব্র্যান্ড ইমেজ ও স্বয়ংক্রিয়তার ওপর ভরসা রাখতে চান, তাঁদের কাছে মডেল Y নিঃসন্দেহে এক আকর্ষণীয় পছন্দ।