
তেলঙ্গনার মা-মেয়ে, ভুক্যা সরিতা-কাবেরী
শেষ আপডেট: 5 May 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বপ্নের উড়ানের কোনও বয়স হয় না, আবারও প্রমাণ করল ২০২৫ সালের নিট। দু’চোখে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মেয়ের সঙ্গেই মেডিক্যালের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসলেন মা।
তেলঙ্গনার সূর্যপেট জেলার মনচ্যানায়ক থান্দা গ্রামের বাসিন্দা ৩৮ বছরের ভুক্যা সরিতা। তিনি মেডিক্যাল পেশার সঙ্গেই যুক্ত। এই বছর তাঁর মেয়ে কাবেরী এই বছর নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন। তাঁর সঙ্গেই মা-ও দিলেন পরীক্ষা। যদিও দু’জনের সিট পড়েছিল আলাদা আলাদা সেন্টারে।
২০০৭ সালে বিএসসি নার্সিং পড়তে পড়তে ফাইনাল দেওয়ার আগে বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। ফলে পড়াশোনায় সেখানেই ইতি। তারপর আস্তে আস্তে কাঁধে এসে পরে পরিবারের দায়িত্ব। একে একে দুই মেয়ের জন্মও দেন সরিতা। জীবনের সমস্ত সময় লিখে দেন পরিবারের নামে।
এতকিছুর পরেও ডাক্তার হতে চাওয়ার স্বপ্নটা রয়েই গেছিল মনের মধ্যে। সরিতার স্বামীও তাঁর মতোই মেডিক্যাল পেশার সঙ্গেই যুক্ত। সরিতার এই স্বপ্নকে লালন করেছেন তাঁর স্বামীও। পাশে ছিলেন সব সময়। চেয়েছিলেন মেয়েও এমবিবিএস করুক, ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করুক।
মেয়ে কাবেরী যখন নিটের জন্য পড়াশোনা শুরু করেন, সরিতার এককালে দেখা ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটা যেন আবার পালে হাওয়া পেয়েছিল। শেষমেশ, পরিবারের উৎসাহে এবং মেয়ের ইচ্ছেতে তিনি তাঁর ফেলে আসা স্বপ্নের হাত ধরবেন বলে ঠিক করেই ফেলেন। কিন্তু বাধা যে একদম ছিল না তা নয়। সেই সব দূরে সরিয়ে রেখে, কাজ-বাড়ি সামলে নিটের জন্য পড়াশোনা শুরু করেন।
জীবন দ্বিতীয় সুযোগ যখন দিয়েছে, অপেক্ষা করেননি সরিতা। তাই সমাজের বাধা উপেক্ষা করে, ব্যক্তিগত জীবনের দায়ভার সামলেও ফেলে আসা স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে এনেছেন তিনি। এই মা-মেয়ের গল্প সেই অর্থে তেমন কোনও বিরল ঘটনার উদাহরণ হয়তো নয়, তবু আমাদের মনে করিয়ে দেয় নতুন অধ্যায় শুরু করার আসলেই কোনও বয়স হয় না।