তেজপ্রতাপকে গত ২৫ মে ছয় বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করেন তাঁর বাবা এবং আরজেডির প্রতিষ্ঠাতা লালুপ্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav)।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 27 July 2025 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজেডি (রাষ্ট্রীয় জনতা দল) থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজেই ঘোষণা করলেন, বিহারের (Bihar Election) আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মহুয়া আসন থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন তেজপ্রতাপ যাদব (Tej Pratap Yadav)। বর্তমানে তিনি সমস্তিপুর জেলার হাসানপুর কেন্দ্রের বিধায়ক।
শনিবার সন্ধ্যায় পাটনার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তেজপ্রতাপ বলেন, “হ্যাঁ, এইবার আমি মহুয়া থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়াব। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীদের এখন থেকেই গায়ে চুলকানি শুরু হয়ে গেছে।” তিনি দাবি করেন, “মানুষ আমার পাশে আছেন। ‘টিম তেজপ্রতাপ যাদব’ নামে আমার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রচুর মানুষ যুক্ত হচ্ছেন।”
এদিন তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সম্পর্কেও ভবিষ্যদ্বাণী করেন—“চাচা (নীতীশ) এইবার আর মুখ্যমন্ত্রী হবেন না। যারা সরকার গঠন করবে, যদি তারা যুব সমাজ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলে, তেজপ্রতাপ যাদব তাদের পাশে দাঁড়াবে।”
তেজপ্রতাপকে গত ২৫ মে ছয় বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করেন তাঁর বাবা এবং আরজেডির প্রতিষ্ঠাতা লালুপ্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav)। একদিন আগে তেজপ্রতাপ ফেসবুকে একটি পোস্টে নিজেকে এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি পোস্টটি মুছে দিয়ে দাবি করেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। এরপর লালুপ্রসাদ তাঁর “দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ”-এর জন্য তাঁকে একরকম পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করেন।
বহিষ্কারের কয়েকদিন পর তেজপ্রতাপ অভিযোগ করেন, তাঁর এবং ছোট ভাই তেজস্বী যাদবের মধ্যে ফাটল ধরাতে একটি ‘ষড়যন্ত্র’ হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্টে তিনি এই সঙ্কটের জন্য ‘জয়চাঁদ’দের দায়ী করেন— যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বাসঘাতকদের ইঙ্গিত করেন।
প্রসঙ্গত, লালুপ্রসাদ এবং রাবড়ি দেবীর সন্তানদের মধ্যে তেজস্বী ও তেজপ্রতাপ, এই দুই ভাই সক্রিয় রাজনীতিতে রয়েছেন। ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রাখেন তেজ প্রতাপ এবং এরই মধ্যে তিনি দু’বার বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি দু’টি মন্ত্রিত্বও সামলেছেন।
আরজেডি আগামী নির্বাচনে তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে ভোটে লড়বে। সেই প্রেক্ষিতে তেজপ্রতাপের নির্দল প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত দলীয় রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।