ট্রাইবুনালের রায়কে নিশানা করে তসলিমা নাসরিন প্রশ্ন তুলেছে, হাসিনা দোষী, কিন্তু একই কাজ করে ইউনুস কেন নন? সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন লেখিকা।

তসলিমা ও হাসিনা
শেষ আপডেট: 18 November 2025 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (ICT)মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে। সোমবার দুপুরে এই রায় সামনে আসতেই তুঙ্গে চর্চা। এনিয়েই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)। প্রশ্ন তুললেন, যে অভিযোগে হাসিনাকে অপরাধী বলা হচ্ছে, সেই একই কাজ করে কেন বিচার থেকে রেহাই পাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus) ও তাঁর ‘জিহাদি বাহিনী’?
সোমবার ঢাকার আইসিটি জানায়, গত বছরের ছাত্র আন্দোলনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন শেখ হাসিনা। অভিযোগ, হত্যায় প্ররোচনা, প্রতিবাদীদের গুলি চালানোর নির্দেশ এবং সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া, এর ভিত্তিতেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় মোটামুটি ওলটপালট করে দিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ।
রায়ের পর রাতে এক্স–এ কড়া প্রতিক্রিয়া দেন তসলিমা। লেখেন, 'যে কাজকে হাসিনার সরকারের অন্যায় বলা হচ্ছে, ইউনুস সরকার এবং তার জিহাদি বাহিনী একই কাজ করেও নিজেদের ‘ন্যায়’ ঘোষণা করছে।' তাঁর প্রশ্ন, ‘যখন কেউ ধ্বংসাত্মক কাজ করে এবং সরকার গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়, তখন সরকার নিজেকে অপরাধী বলে না। তাহলে গত জুলাইয়ে নাশকতা দমন করতে হাসিনার দেওয়া নির্দেশে তাঁকে অপরাধী বলা হচ্ছে কেন?’
১৯৯৪ সালে ‘লজ্জা’ বইকে কেন্দ্র করে চরম হুমকির মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা। তখন থেকেই তিনি ভারতে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনুস প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন লেখিকা। তাঁর দাবি, নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize) কেড়ে নেওয়া উচিত ইউনুসের কাছ থেকে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়া উচিত তাঁর।
ইউনুস ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে (Grameen Bank) সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোফিন্যান্স মডেলের কাজের জন্য শান্তিতে নোবেল পান। গত বছরের ৫ অগস্ট ছাত্র আন্দোলনে হাসিনা সরকার পতনের পর ৮ অগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন।
আইসিটির রায়ে হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাষ্ট্রীয় সাক্ষী হয়ে পাঁচ বছরের সাজা পেয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে এই রায় নতুন অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। হাসিনা রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’, ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘অবৈধ ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত’ বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউনুস বলছেন, ক্ষমতা যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাই এখন প্রশ্ন একটাই. এই রায়ে যে উত্তাপ বাড়ছে, তা কোথায় গিয়ে থামবে?