বরাতজোরে কিছু মানুষ এই দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছেন। স্থানীয় মানুষ জলে ঝাঁপ দিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেছেন।

বেশ কয়েকজন আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে গিয়েছেন।
শেষ আপডেট: 9 July 2025 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের বরোদা ও আনন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী মহীসাগর নদীর উপর নির্মিত গম্ভীরা সেতুর বয়স ৪৫ বছর। বুধবার ভোরে সেতুটি মাঝনদী বরাবর ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সেতু ভেঙে পড়ার সময় মনে হয়েছিল বুঝি ভূমিকম্প হচ্ছে। তারপরেই দেখা গেল, মাঝখান থেকে তাসের ঘরে মতো একটি গার্ডার খুলে জলে গিয়ে পড়ছে। সঙ্গে প্রায় চার-ছটি গাড়ি। একটি বিশালাকার ট্রাক তো এদিন দুপুর পর্যন্ত সেতুর একপ্রান্তে ঝুলছিল।
বরাতজোরে কিছু মানুষ এই দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছেন। স্থানীয় মানুষ জলে ঝাঁপ দিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেছেন। কয়েকজন যুবক বাইক নিয়েই প্রাণে বাঁচতে উঁচু সেতু থেকে সিনেমার নায়কের মতো জলে লাফিয়ে পড়েন। কিছু গাড়ি গতি রোধ না করতে পেরে নদীতে আছড়ে পড়ে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে গিয়েছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তাঁরা শোনালেন কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছিল ও কীভাবে তাঁদের প্রাণরক্ষা হয়েছে।
নবপুরার বাসিন্দা ২৫ বছরের যুবক সঞ্জয়ভাই সোমাভাই চাওড়া বলেন, প্রথমে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হয়েছে। বাইকে করে তিনি তাঁর কোম্পানিতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই সামনে দেখেন ব্রিজ খসে পড়ছে। তা দেখে কষে ব্রেক মারেন চাওড়া। তিনি বলেন, চোখের সামনে দেখলাম পাঁচ-ছটি গাড়ি উপর থেকে নীচে পড়ছে। আমরা কয়েকজন বেঁচে গেছি, ব্রেক মেরেছিলাম বলে। তিনি জানান, চোখের সামনে দেখলাম একটা অটো রিকশ, বাইক ও একটি গাড়ি নীচে পড়ে গেল। আমরা চারজন বাইকে ছিলাম। আমরাই অদ্ভুতভাবে বেঁচে গিয়েছি।
আনন্দ জেলার কিঙ্খলোদের বাসিন্দা দুই ভাই ২৩ বছরের মহেশভাই লালজিভাই পারমার ও ২৫ বছরের বিজয়ভাই লালজিভাই পারমারও এই দুর্ঘটনায় আশ্চর্যজনকভাবে রক্ষা পেয়েছেন। বিজয়ভাই জানান, তাঁরা যখন কাজে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁদের বাইক পাংচার হয়ে যায়। সারাই করে তাঁরা যখন রওনা দিয়েছেন, তখনই সেতু ভেঙে পড়ে। তাঁরা দেখেছেন, একটি Eeco গাড়ি, একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি ট্রাক জলে গিয়ে পড়ে। বাইকচালক খুব জোরে ব্রেক মারলে তাঁরা দুজনেই পিছলে সেতুর উপরই পড়ে যান। পড়ে গেলেও সেই ব্যথা তাঁদের কাবু করতে পারেনি, সেতু খুলে পড়ে যেতে দেখে তাঁদের হৃদস্পন্দনই বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছিল।
দ্বারকার বাসিন্দা রাজুভাই দুদাভাই আথিয়া বলেন, এত দ্রুত সবকিছু ঘটে গেল যে, কিছু বুঝতেই পারলাম না। তিনি দ্বারকা আঙ্কলেশ্বর যাচ্ছিলেন। সেতু ভেঙে পড়ার সঙ্গে তিনি ও তাঁর সঙ্গীও জলে এসে পড়েন। তিনি বলেন, আমি জানি না, আমার সঙ্গী এখন কোথায়। আমি কোনওমতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে জলের উপর থাকা একটি গাড়ির মাথায় চড়ে বসি। কিছুক্ষণ পর লোকজন নৌকা নিয়ে এসে আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন।
সেতু ভেঙে পড়ার সময় যাঁরা প্রথম উদ্ধারকাজ শুরু করেছিলেন, তাঁদের একজন হলেন অতুলকুমার ঠাকোরভাই পাড়িয়ার। তিনি গম্ভীরা ছোকড়ির কাছে থাকেন। ব্রিজ ভেঙে পড়ার খবর শুনেই আমি ও আমার এক বন্ধু রিকশ ধরে সেখানে পৌঁছে যাই। গিয়ে দেখি জলের উপর মানুষ ভাসছে, বাঁচার চেষ্টা করছে। তখনই চোখে পড়ে এক আন্টি জলের উপর একটি গাড়ি ধরে চিৎকার করছেন। তিনি তাঁর স্বামী-সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। আমরাই সাত-আটজনকে জল থেকে টেনে বের করি।