ইউটিউবে ‘PKR Vlogger’ নামে পরিচিত প্রিন্স নিয়মিতই বাইক রাইডিং ও স্টান্টের ভিডিও আপলোড করতেন। পুরনো ক্লিপ ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, তিনি প্রায়ই বিপজ্জনক গতিতে স্টান্ট করতেন এবং বেশিরভাগ সময়ই কোনও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতেন না।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 December 2025 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকচিক্যের জগত। যে যত বেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) অ্যাক্টিভ, সে যেন তত বড় সেলেব্রেটি। আর রিলের ভিউ বুঝিয়ে দেয় তাঁর জনপ্রিয়তা ঠিক কোনও জায়গায়। আর এই রিলের ভিউ (Reel Views) বাড়ানোর নেশা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এক তরুণ ইউটিউবারের প্রাণ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টান্ট করে ভাইরাল হওয়ার দৌড়ে গুজরাতের সুরাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় (Accident in Surat) প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ বছরের প্রিন্স প্যাটেল (Price Patel)। বুধবার গভীর রাতে সুরাতের গ্রেটার লিনিয়ার ব্রিজের কাছে মাল্টি-ফ্লাইওভারের ঢালে চরম গতিতে বাইক চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান প্রিন্স।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তাঁর চালানো KTM Duke মুহূর্তে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার স্পর্শ করেছিল। হঠাৎ বাইকটি ডিভাইডারে (Divider) ধাক্কা খায়। প্রচণ্ড আঘাতে তিনি সেখানেই প্রাণ হারান। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তাঁর মাথায় হেলমেট (Helmet) ছিল না - ফলে বাঁচার কোনও সুযোগই ছিল না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময়ে যুবকের মাথা ধড় থেকে আলাদা হয়ে কিছুটা দূরে ছিটকে পড়েছিল!
ইউটিউবে ‘PKR Vlogger’ নামে পরিচিত প্রিন্স নিয়মিতই বাইক রাইডিং ও স্টান্টের (Bike Riding and Stunt) ভিডিও আপলোড করতেন। পুরনো ক্লিপ ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, তিনি প্রায়ই বিপজ্জনক গতিতে স্টান্ট করতেন এবং বেশিরভাগ সময়ই কোনও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতেন না। পুলিশ বলছে, সুরাতের বহু যুবকের কাছে তিনি ছিলেন ‘আইকন’–এর মতো।
মাত্র ১৮ বছরেই এত বড় হাই-পারফরম্যান্স বাইক তাঁর হাতে এল কীভাবে, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রিন্সের পরিবারের লোকজন জানান, ছোট থেকেই বাইকের প্রতি তাঁর উৎসাহ ছিল প্রবল। নিজের KTM–এর নামও রেখেছিলেন - লাইলা। সেই প্রিয় বাইকই শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াল।
পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ফ্লাইওভারের ঢাল থেকে নামার সময় অতিরিক্ত গতি সামলাতে না পেরে বাইকটি সোজা ডিভাইডারে গিয়ে ধাক্কা মারে। আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে তরুণ ইউটিউবারের। স্থানীয়দের মতে, পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিলেন প্রিন্স। এই আকস্মিক মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছেন তাঁর মা-সহ আত্মীয়রা।
পুলিশের দাবি, যদি হেলমেট পরা থাকত, তবে অন্তত গুরুতর আঘাত এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টান্ট করতে গিয়ে যুবকদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।