Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

ভোটের আগে জানা যাবে কি ইলেক্টরাল বন্ড থেকে কোন দল কত আয় করেছে, আজ বলবে সুপ্রিম কোর্ট

সোমবারই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে কোন দল কোন শিল্পসংস্থা এবং ব্যক্তির কাছ থেকে বন্ড বাবদ কত অর্থ রোজগার করেছে।

ভোটের আগে জানা যাবে কি ইলেক্টরাল বন্ড থেকে কোন দল কত আয় করেছে, আজ বলবে সুপ্রিম কোর্ট

শেষ আপডেট: 11 March 2024 10:15

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইলেক্টোরাল বন্ড নিয়ে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার আর্জি নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট শুনানি হবে। সোমবারই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে কোন দল কোন শিল্পসংস্থা এবং ব্যক্তির কাছ থেকে বন্ড বাবদ কত অর্থ রোজগার করেছে। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার জানিয়েছিল, এসবিআইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলারও সোমবার একই সঙ্গে শুনবে তারা। 

গত মাসে শীর্ষ আদালত ইলেক্টোরাল বন্ডকে অসাংবিধানিক এবং বেআইনি বলে নিষিদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি ২০১৯-এর এপ্রিল থেকে বন্ড থেকে কোনও দল কত টাকা পেয়েছে সেই তথ্য ১৩ মার্চের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল। তার আগে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বন্ড সংক্রান্ত তথ্য কমিশনকে দেওয়ার কথা। 

কিন্তু এসবিআই ৬ মার্চ, নির্ধাকিত দিনে কমিশনকে কোনও তথ্য না দিয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বলেছে, বন্ড সংক্রান্ত তথ্য দিতে তাদের চারমাস সময় লাগবে। অর্থাৎ ভোটের আগে মানুষ জানতে পারবেন না কোন দল বন্ড থেকে কত টাকা পেয়েছে। 

এসবিআইয়ের এই অবস্থানের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতের রায় অবমাননার মামলাটি করেছে নির্বাচনী সংস্কারের কাজে যুক্ত সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্ট্যাটিক রিফমর্স (এডিআর)। তাদের মামলার বিষয়, সুপ্রিম কোর্ট বলার পরও এসবিআই বন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে গড়মসি করছে। 

নরেন্দ্র মোদী সরকার চালু করা ইলেক্টোরাল বন্ড একমাত্র স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নির্দিষ্ট কতগুলি শাখা থেকেই শুধু বিক্রি ও ভাঙানোর সুযোগ ছিল। সেখানে গিয়ে ডিমান্ড ড্রাফ্ট বা চেক দিলে এসবিআইয়ের শাখা থেকে বন্ড দেওয়া হত। সেই বন্ড রাজনৈতিক দলের হাতে তুলে দিলে তারা তা ব্যাঙ্ক থেকে ভাঙিয়ে নিত। সেই তথ্য এতকাল গোপন ছিল। অর্থাৎ বন্ড থেকে কোন দল কত অর্থ পেয়েছে তা সহজেই জানা গেলেও কারা সেই অর্থ দিয়েছ তা জানার উপায় ছিল না। নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলির পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী বন্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৫৫ শতাংশই পেয়েছে বিজেপি। দ্বিতীয় স্থানে আছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও বিজেপির তুলনায় তাদের আয় অনেক কম। আবার কংগ্রেসের মতো সর্ব ভারতীয় দলের তুলনায় তৃণমূলের বেশি আয়ও খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলকে কোনও সংস্থা, কোম্পানি কত টাকা নিয়েছে তা জানতে কৌতূহল রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলিতে। বন্ড থেকে অর্থ নেয়নি একমাত্র বাম দলগুলি। 

প্রশ্ন হল, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কত টাকার বন্ড কিনেছে এবং কোন দল সেই খাত থেকে কত টাকা পেয়েছে, এই তথ্য প্রকাশ করতে এসবিআই চার মাস সময় চাইছে কেন? কম্পিউটারের বোতাম টিপেই তো মুহূর্তে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া সম্ভব? 

ব্যাঙ্ক অবশ্য বলছে বিষয়টি মোটেই অত সহজ নয়। ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত কোনও তথ্যই এসবিআই কম্পিউটারে নথিভুক্ত করেনি। বন্ডের ক্রেতা এবং কোন দল তা পেয়েছে সেই তথ্য গোপন রাখতেই তারা এই সংক্রান্ত তথ্য কম্পিউটারে তোলেনি বলে ব্যাঙ্কের ব্যাখ্যা। তাদের বক্তব্য, দেশের যে ব্যাঙ্ক থেকে যিনি যত টাকার বন্ড কিনেছেন এবং যে দল যেখানে তা ভাঙিয়েছে, সব তথ্যই কাগজে লেখা এবং এই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ব্যাঙ্কের মুম্বইয়ের সদর দফতরে রাখা আছে। 

যদিও শীর্ষ ব্যাঙ্কের এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত নন অনেকেই। প্রাক্তন অর্থ সচিব সুভাষচন্দ্র গর্গের বক্তব্য, এক থেকে দু’দিনের বেশি লাগার কথা নয় এই তথ্য দিতে। অর্থমন্ত্রক বা সংসদ যখন তথ্য চান তখন এসবিআই ২৪ ঘন্টার মধ্যে তথ্য দেয়। তাঁর বক্তব্য, কোনও দলের তহবিলে বন্ডের টাকা গিয়েছে কম্পিউটারের বোতাম টিপেই তা জানা সম্ভব। এই মামলায় অন্যতম আইনজীবী কপিল সিব্বল এসবিআইয়ের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে বলেছেন, আপনিই আপনার রায়ের মর্যাদা রক্ষা করুন। স্টেট ব্যাঙ্ক আসলে বিজেপি এবং শিল্পমহলকে আড়াল করতে ভোটের আগে বন্ডের তথ্য প্রকাশ করতে চাইছে না। 

এসবিআই জানিয়েছে, ২০১৯-এর এপ্রিল থেকে আদালতের রায়দান পর্যন্ত ২২, ২১৭টি বন্ড বিক্রি হয়েছে। একজন ব্যক্তি গড়ে দশটি বন্ড কিনে থাকলেও ২,২২২টি লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যই কাগজে লেখা এবং এই সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যাঙ্কের মুম্বইয়ের সদর দফতরে রাখা আছে। সেখান থেকে বিভিন্ন রাজ্যের এসবিআই শাখার কাছে জানতে চাইতে হবে কোন বন্ড কে কিনেছিল এবং তা কোন দলের তহবিলে জমা হয়েছে। 

ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক বলেন, ইলেক্টোরাল বন্ডে ক্রেতার নাম লেখা থাকে না। লেখা থাকে না প্রাপকের নামও। ফলে ওই বন্ড কেনার পর কেউ তা হারিয়ে ফেললে খুঁজে পাওয়ার পরও মালিকানা দাবি করা কঠিন। একমাত্র ব্যাঙ্কের যে শাখা থেকে কেনা হয়েছে, তারাই বলতে পারবে, কে ওই বন্ড কিনেছিলেন। 

এসবিআইয়ের বক্তব্য, সারা দেশে তাদের একাধিক শাখা থেকে বন্ড বিক্রি এবং ভাঙানো সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ের সদর দফতরে জমা হওয়া তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখার পর তবেই তারা বলতে পারবে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কত টাকার বন্ড কিনেছেন এবং তা জমা হয়েছে কোন দলের তহবিলে। এখন দেখার এসবিআইয়ের এই সমস্যা শোনার পর শীর্ষ ব্যাঙ্ক কী বলে।


```