2.jpeg)
সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 24 March 2025 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আত্মহত্যা ক্রমে বেড়ে চলার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি টাস্ক ফোর্স গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে তারা। আদালত জানিয়েছে, যৌন হয়রানি, র্যাগিং ও জাতিগত বৈষম্যের কারণে কলেজ হোস্টেলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি গভীর সমস্যা। এই সমস্যা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও আর মহাদেবনের বেঞ্চ গত দু'মাসে কলেজ হোস্টেলে একাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, 'আমরা মনে করি, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। এগুলো আর কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটাই আমাদের আরও বেশি উদ্বিগ্ন করছে।'
এই পরিস্থিতির সমাধান খুঁজতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাটের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে চার মাসের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার কারণ চিহ্নিত করা ও তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা সুপারিশ করা হবে।
এই টাস্ক ফোর্সে উচ্চশিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার, নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং আইন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
২০২৩ সালে আইআইটি দিল্লির হোস্টেলে দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ সামনে এসেছে। ওই ঘটনায় তদন্ত করে কেসের চার্জশিট জমা দিয়েছিল পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করে পেশও করেছিল আদালতে। এর পরে মামলার নিষ্পত্তিও হয়ে যায়।
তবে ওই দুই পড়ুয়ার অভিভাবকরা ফের পিটিশন দায়ের করে অভিযোগ করেন, যে ক্যাম্পাসে তাঁদের সন্তানদের উপর হেনস্থার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর পরেই আদালত পুলিশের আগের তদন্তকে ভুল বলে উল্লেখ করে জানায়, 'যদি অভিভাবকদের মনে হয় তাঁদের সন্তানরা হেনস্থার শিকার হয়েছেন, তাহলে পুলিশের দায়িত্ব ছিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা। শুধুমাত্র প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে মামলা বন্ধ করে দেওয়া যথেষ্ট নয়।'
আদালত আরও বলেছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে শুধুমাত্র মৃত্যুর কারণ জানা যায়, কিন্তু সেটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে হয়েছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তাই শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, টাস্ক ফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে র্যাগিং, বৈষম্য ও হেনস্থার মতো বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টাস্ক ফোর্সের প্রতিবেদন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।