1.jpeg)
সুপ্রিম কোর্টে নির্যাতিতার পরিবার।
শেষ আপডেট: 7 February 2025 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের মামলায় পুনরায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। আজ, শুক্রবার, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না জানালেন, এই মামলাটিতে তাড়াহুড়োর কোনও প্রয়োজন নেই। আগামী ১৭ মার্চ নির্ধারিত দিনেই মামলাটি শুনবে আদালত।
আরজি করের ধর্ষণ-খুন মামলায় সিবিআই তদন্তে একমাত্র দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সঞ্জয় রায়। তবে এতে সন্তুষ্ট হননি নির্যাতিতার মা-বাবা। তাঁদের দাবি, আরও অনেক সত্য গোপন করা হয়েছে, আরও অনেক অপরাধীকে আড়াল করা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে, মেয়ের সুবিচারের দাবিতে, পুনর্তদন্ত চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা।
হাইকোর্ট থেকে তাঁদের বলা হয়, এই মামলাটি শোনার জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বা সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি লাগবে। তখনই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতার বাবা-মা। ১৭ মার্চ শুনানির দিন ঠিক হয়। কিন্তু তাহলে হাইকোর্টেও মামলা উঠতে অনেক দেরি হয়ে যাবে বেলে আবেদন করে, দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে, আজ, শুক্রবার ফের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পরিবারের আইনজীবী।
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এদিন জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মনে করছেন না এই মামলাটিতে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন আছে বলে। তাই নির্ধারিত ১৭ মার্চই মামলাটির শুনানি হবে। তখনই তিনি শুনবেন, হাইকোর্টে মামলার শুনানি হওয়ার বা সিবিআই তদন্ত ফের করার সওয়াল।
গত বছরের ৯ অগস্ট। কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের (RG Kar Rape and Murder Case) নারকীয় ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছিল। ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল হাসপাতালেরই তরুণী চিকিৎসককে। মূল ঘটনার ৫ মাস ৯ দিন পর গত ২০ জানুয়ারি সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল শিয়ালদহ আদালত।
নির্যাতিতার বাবা-মা অবশ্য সিবিআই তদন্তে খুব একটা খুশি হতে পারেননি। তাঁরা দাবি করে এসেছেন যে, এই ঘটনা সঞ্জয় রায়ের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। সিবিআই মূল দোষীদের আড়াল করছে বলেও সন্দেহ করেছেন তাঁরা।
এছাড়া প্রতিবাদী জুনিয়র ডাক্তার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একাংশও মনে করে, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত। কিন্তু সিবিআই মনে করেছে, সঞ্জয় একাই দোষী। আর তাঁদের একাধিক রিপোর্টেও বলা হয়েছে যে এই কাজ কারও একার পক্ষে করা সম্ভব।
আরজি কর কাণ্ডের রায় বেরোনোর আগে নির্যাতিতার বাবা-মা বলেছিলেন, মেয়েকে হারানোর পর তাঁদের সব হারিয়ে গেছে। তাই বিচারকের রায়ে তাঁদের আর কিছুই এসে যাবে না। তবে সত্যিই যদি অভিযুক্তরা ধরা পড়ত আর তাদের শাস্তি হত, তবে তাঁদের মেয়ের আত্মার শান্তি হত। তাঁরা মনে করছেন, সব চেয়ে বড় দোষীরাই এখনও অধরা রয়ে গেছেন।
প্রসঙ্গত, আগামী পরশু ৯ ফেব্রুয়ারি আরজি করের নির্যাতিতার জন্মদিন। এদিকে ওই দিনই এই নারকীয় ঘটনার ৬ মাসও হচ্ছে। 'বিচারহীন ৬ মাস' শিরোনামে শুক্রবার একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। মেয়ের জন্মদিনের দিক থেকে নতুন করে পথে নেমে আন্দোলন সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা।