সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের সতর্কতা প্রদর্শনে “কোনও ভুল নেই”। আদালত আরও জানায়, বর্তমান বাজার ভোক্তা-নির্ভর। ফলে মানুষকে সঠিক তথ্য জানানো হলে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘ভোক্তা-নির্ভর বাজারে সচেতনতা জরুরি’ (ছবি - সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 6 April 2026 20:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ন্যানোপ্লাস্টিকের বিপজ্জনক দিকটি এখন কমবেশি সকলের কাছেই উৎকণ্ঠার কারণ। পানীয় জল, চিনি ও নুনের মতো দৈনন্দিন খাদ্যপণ্যের প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ে ‘মাইক্রো বা ন্যানো প্লাস্টিক থাকতে পারে’ - এই সতর্কবার্তা (microplastics warning India) দেওয়ার নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court plastic packaging warning label)। সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের সতর্কতা প্রদর্শনে “কোনও ভুল নেই”।
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ সোমবার এই মন্তব্য করে জানায়, বিভিন্ন রিপোর্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে। তাই সাধারণ মানুষকে সচেতন করা প্রয়োজন (PET bottle warning India)।
প্রসঙ্গত, এই মামলায় মাদ্রাস হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা এই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “সরকার হয়তো দেরি করছে, কিন্তু হাইকোর্ট এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে… মানুষকে বিষয়টা জানাতে দিন।”
কী বলেছিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট?
গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাদ্রাজ হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, প্লাস্টিক বা PET (পলিথিলিন টেরেফথ্যালেট) বোতলে বিক্রি হওয়া জলের গায়ে স্পষ্টভাবে, লাল রঙের মোটা অক্ষরে লিখতে হবে, “এই জলে মাইক্রো বা ন্যানো প্লাস্টিক থাকতে পারে”। একইভাবে, প্লাস্টিক প্যাকেটে বিক্রি হওয়া চিনি ও লবণের ক্ষেত্রেও একই সতর্কবার্তা দিতে হবে - “এই চিনি, নুনে মাইক্রো বা ন্যানো প্লাস্টিক থাকতে পারে”।
এই নির্দেশ কার্যকর করতে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-কে উপযুক্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি সব নির্মাতাকে এই লেবেল বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
হাইকোর্ট জানায়, তাদের নির্দেশের কপি পাওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।
‘ভয় ছড়াতে পারে’ - আপত্তি আবেদনকারীর
এই নির্দেশের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পেট প্যাকেজিং অ্যাসোশিয়েসন ফর ক্লিন এনভায়রনমেন্ট (PET Packaging Association for Clean Environment)। তাদের দাবি, এই ধরনের সতর্কবার্তা মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, ইতিমধ্যেই মানুষ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর দিকে ঝুঁকছে, বিশেষ করে জল বোতলের ক্ষেত্রে।
‘ভোক্তা-নির্ভর বাজারে সচেতনতা জরুরি’
আদালত আরও জানায়, বর্তমান বাজার ভোক্তা-নির্ভর। ফলে মানুষকে সঠিক তথ্য জানানো হলে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট উল্লেখ করে, বিষয়টি এখনও হাইকোর্টে বিচারাধীন। পরে আবেদনকারীর আইনজীবী আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চান, যাতে তারা ফের হাইকোর্টে যেতে পারেন। আদালত সেই অনুমতিও দেয়।