২০১৩ সালে একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পান হরিশ রানা। একটি পেইং গেস্ট আবাসনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর তিনি স্থায়ী ভাবে অচেতন অবস্থায় বা কোমায় চলে যান।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পারদিওয়ালা (গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 11 March 2026 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা যুবক হরিশ রানার ইউথেনেশিয়া (Harish Rana Euthanasia) মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার সময় আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। বুধবার রায় পড়তে পড়তে দৃশ্যত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা (J.B. Pardiwala)। আদালত কক্ষে বসে কেঁদেও ফেলেন বিচারপতি।
বিচারপতি পারদিওয়ালা (Justice J.B. Pardiwala) এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের (Justice K. V. Viswanathan) বেঞ্চ এই মামলায় হরিশ রানার বাবা-মাকে তাঁর জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা তথা লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। ১৩ বছর ধরে কোমায় তথা স্থায়ীভাবে অচেতন ছিলেন হরিশ। যাকে বলা হয়, পার্সিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট (Persistent Vegetative State)। শেষমেশ শীর্ষ আদালতের রায়ের পর ৩২ বছরের হরিশ রানার জন্য প্যাসিভ ইউথেনেশিয়ার পথ খুলে গেল।
রায় পড়ার সময়ে বিচারপতি পারদিওয়ালা বলেন, হরিশ রানা একসময়ে ছিলেন ‘একজন উজ্জ্বল তরুণ ছাত্র’। দুর্ঘটনার আগে তিনি মন দিয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে দেয়। সেই ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়েই বিচারপতি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর গলা বুজে আসে। কিছুক্ষণের জন্য রায় পড়া থেমে যায়।
২০১৩ সালে একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পান হরিশ রানা (Harish Rana Accident)। একটি পেইং গেস্ট আবাসনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর তিনি স্থায়ী ভাবে অচেতন অবস্থায় বা কোমায় চলে যান।
তারপর থেকে গত ১৩ বছর ধরে তিনি পার্সিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেটে ছিলেন। চিকিৎসকদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁর অবস্থার উন্নতির কোনও সম্ভাবনা নেই।
রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলেছে, রোগীর মৃত্যু তাঁর স্বার্থে কি না, তা এই ধরনের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়; বরং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া আদৌ তাঁর স্বার্থে কি না সেটাই বিবেচনা করা উচিত।
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ক্লিনিক্যালি দেওয়া পুষ্টিকেও (feeding tube) চিকিৎসার অংশ হিসেবে ধরা হবে। তাই চিকিৎসক বোর্ড যদি মনে করে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাহলে সেই চিকিৎসাও প্রত্যাহার করা যেতে পারে।