আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংবিধানসম্মত আচরণের সীমা বজায় রাখা জরুরি, তবে ভোটের আগে এ ধরনের মামলা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আনার প্রবণতা বাড়ছে।

শেষ আপডেট: 16 February 2026 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ‘গুলি চালানোর’ ভাইরাল ভিডিও বিতর্কে (Himanta Biswa Sarma viral video case) দায়ের হওয়া আবেদনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)।
সোমবার শীর্ষ আদালত জানায়, এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া আবেদনগুলি আগে গুয়াহাটি হাইকোর্ট (Gauhati High Court)–এ জানানো উচিত। আবেদনকারীদের উদ্দেশে আদালতের স্পষ্ট বার্তা - এই বিষয়ে (Assam CM controversy) হাইকোর্টের কর্তৃত্ব খর্ব করা চলবে না।
“হাইকোর্টে যান, এখানেই সব মামলা আসছে”- মন্তব্য শীর্ষ আদালতের
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant), বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি (Joymalya Bagchi) এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি (Vipul M Pancholi)–র বেঞ্চ আবেদনকারীদের কাছে করে জানতে চায়, কেন তাঁরা গুয়াহাটি হাইকোর্টে যাননি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংবিধানসম্মত আচরণের সীমা বজায় রাখা জরুরি, তবে ভোটের আগে এ ধরনের মামলা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আনার প্রবণতা বাড়ছে।
শীর্ষ আদালত আরও মন্তব্য করে, এখন প্রায় সব বিষয়ই সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। ইতিমধ্যেই পরিবেশ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বহু মামলা হাইকোর্টের হাতছাড়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করে আদালত।
আবেদনকারীদের যুক্তি খারিজ, দ্রুত শুনানির নির্দেশ
আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক সাঙ্গভি (Abhishek Singhvi) দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নাকি “অভ্যাসগত ও পুনরাবৃত্ত অপরাধী”।
তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি মেনে নেয়নি। আবেদনকারীদের গুয়াহাটি হাইকোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বিষয়টির দ্রুত শুনানির জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।
আগেও শুনানির ইঙ্গিত দিয়েছিল শীর্ষ আদালত
১০ ফেব্রুয়ারি বাম নেতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি (BJP Assam video row) বিবেচনা করতে রাজি হয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই প্রেক্ষিতে আদালতের মন্তব্য ছিল, অনেক সময় প্রকৃত নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়ে যায়। আইনজীবী নিজাম পাশা, যিনি সিপিএম এবং সিপিআইএম–এর কিছু নেতার পক্ষে সওয়াল করেন, তাঁর বক্তব্যও আদালত নথিভুক্ত করে এবং আবেদন তালিকাভুক্ত করার কথা জানান।
কী এই ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক?
৭ ফেব্রুয়ারি বিজেপির অসম শাখার অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যার ক্যাপশন ছিল 'পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শট' (point blank shot)। ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী একটি রাইফেল তাক করে গুলি চালাচ্ছেন। অভিযোগ, তিনি দুই ব্যক্তির ছবির দিকে গুলি ছুড়ছেন, যাঁরা দু’জনেই টুপি পরা অবস্থায় ছিলেন।
ভিডিওতে আরও একটি ছবি ছিল, যেখানে লেখা, “পরিচয়, জমি ও শিকড় আগে। পাকিস্তানে কেন গেলে? বাংলাদেশিদের জন্য ক্ষমা নেই।”
বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় পোস্ট মুছে ফেলে বিজেপি
ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। কংগ্রেস ভিডিওটিকে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক হত্যা’কে মহিমান্বিত করার চেষ্টা বলে অভিযোগ করে। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল বলেন, এটি নিছক ট্রোল কনটেন্ট নয়, বরং “উপর থেকে ছড়ানো বিষ”, যার ফল ভোগ করতেই হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এটি গণহত্যার আহ্বান ছাড়া কিছু নয়।
ক্রমবর্ধমান বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি মুছে দেয় বিজেপি।
এফআইআর ও বিশেষ তদন্তের দাবি
ভিডিওকে কেন্দ্র করে পৃথকভাবে মামলা দায়ের করেছেন বাম নেতা অ্যানি রাজা–সহ একাধিক আবেদনকারী। তাঁদের দাবি, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হোক। এছাড়াও, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সংস্থার উপর নির্ভরযোগ্য তদন্তের আশা নেই বলে দাবি করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
তাছাড়া আরও একটি পৃথক আবেদনে সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের বিভাজনমূলক মন্তব্য রুখতে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে।