
বিবাহবিচ্ছিন্নাদের অধিকার রক্ষা আইন, ১৯৮৬ অনুসারে মুসলিম মহিলাদের ধর্মনিরপেক্ষতার চোখে আলাদা করে দেখা যায় না।
শেষ আপডেট: 10 July 2024 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিবাহবিচ্ছিন্না মুসলিম মহিলারাও খোরপোশ পাওয়ার যোগ্য। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছিন্না মুসলিম মহিলারা আদালতে খোরপোশের দাবি জানাতে পারবেন। বুধবার, ১০ জুলাই, একথা সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
এদিন বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং অগাস্টিন জর্জ ম্যাসির বেঞ্চ এক মুসলিম পুরুষের আর্জি খারিজ করে দেয়। তিনি বিবাহবিচ্ছিন্না স্ত্রীর আনা ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ ধারা মোতাবেক খোরপোশের আবেদনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, আদালত জানিয়ে দেয়, বিবাহবিচ্ছিন্নাদের অধিকার রক্ষা আইন, ১৯৮৬ অনুসারে মুসলিম মহিলাদের ধর্মনিরপেক্ষতার চোখে আলাদা করে দেখা যায় না।
বিচারপতি নাগরত্ন এবং ম্যাসি এ বিষয়ে পৃথক কিন্তু সহমত পোষণ করে রায় দেন। বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, আমরা ফৌজদারি আর্জি খারিজ করে এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছি যে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ নম্বর ধারা শুধু বিবাহিতাদের ক্ষেত্রেই নয়, সকল মহিলাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
বেঞ্চ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ নম্বর ধারায় যদি কোনও মুসলিম মহিলার বিবাহবিচ্ছিন্নের আর্জির শুনানি পড়ে থাকে তাহলে তিনি খোরপোশ পেতে পারেন। মুসলিম মহিলা (বিবাহ অধিকার রক্ষা) আইন, ২০১৯-এ এর বন্দোবস্ত আছে।
সম্প্রতি তেলঙ্গানা হাইকোর্ট আবেদনকারী মহম্মদ আবদুস সামাদকে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে মাসে ১০ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। এদিন সেই আর্জি খারিজ হয়ে যায় সর্বোচ্চ আদালতেও। এক যুগান্তকারী রায়ে শাহ বানো মামলাতেও সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, খোরপোশের ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলারাও তা পাওয়ার যোগ্য। উল্লেখ্য, আবেদনকারী হাইকোর্টে বলেছিলেন যে, মুসলিম পার্সোনাল ল অনুসারে ২০১৭ সালে তাঁদের ডিভোর্স হয়েছিল। কিন্তু, সেই আর্জি নাকচ করে দিয়ে উচ্চ আদালত জানিয়ে দেয় প্রাক্তন স্ত্রীকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে খোরপোশ দিতে হবে এবং পারিবারিক আদালতকে ৬ মাসের মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।