
শেষ আপডেট: 16 October 2023 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা সেই মহিলাকে শেষমেশ গর্ভপাতের অনুমতি দিল না সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিল, শিশুর হৃদস্পন্দন বন্ধ করে দেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন না তাঁরা, যেখানে হবু মা কিংবা গর্ভস্থ ভ্রূণ, কারওরই কোনও শারীরিক জটিলতা কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা নেই। সেই সঙ্গে আদালত একথাও জানিয়েছে, যেহেতু মহিলা সন্তানকে রাখতে ইচ্ছুক নন, তাই শিশুটির জন্মের পর রাষ্ট্রকেই তার দায়িত্ব নিতে হবে।
আবেদনকারী মহিলা আদালতে জানিয়েছিলেন, তিনি আগের সন্তান জন্মের পর থেকেই পোস্ট পার্টাম সাইকোসিস নামে এক ধরনের মানসিক অসুখে আক্রান্ত। তাই আবার সন্তান নেওয়ার মতো মানসিক কিংবা আর্থিক অবস্থা নেই তাঁর। গর্ভাবস্থা ২৪ সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর দিল্লি এইমসে গর্ভপাত করানোর অনুমতি চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি বিভি নাগরত্নার বেঞ্চ সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, এই গর্ভধারণের ক্ষেত্রে মহিলার প্রাণহানির কোনও আশঙ্কা নেই। এছাড়া মেডিক্যাল টেস্টে ভ্রূণের কোনও রকম অস্বাভাবিকতাও দেখা যায়নি।
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আগেই বলেছিল, কোনও আদালতই শিশুর হৃদস্পন্দন বন্ধ করতে চায় না। এই মামলায় আলাদা করে আবেদনকারীর স্বামীর সঙ্গেও কথা বলেছিল আদালত। তারপরই সোমবার এই রায় দিয়েছেন বিচারপতিরা। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, মহিলা যেহেতু সন্তানকে রাখতে চান না, তাই তাঁর বাবা-মা সিদ্ধান্ত নেবেন, শিশুটির জন্মের পর তাকে তাঁরা দত্তক নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবেন কিনা। তবে এরপরেও মহিলার চিকিৎসা হবে এইমসেই। তার যাবতীয় খরচ বহন করবে রাষ্ট্র।
মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি (এমটিপি) অ্যাক্টের অধীনে বিবাহিত মহিলাদের জন্য গর্ভপাতের ঊর্ধ্বসীমা ২৪ সপ্তাহ। তারপর গর্ভপাত করাতে চাইলে অবশ্যই আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে ধর্ষণজনিত কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে এবং অন্যান্য কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল মহিলা, ভিন্নভাবে সক্ষম মহিলা এবং নাবালিকাদের জন্য এই সীমায় ছাড় রয়েছে।