আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এমন বক্তব্য বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তিতে আঘাত হানে। তাঁর কথায়, এটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেই মনে হচ্ছে। শীর্ষ আদালত বইটি দেশ-বিদেশে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং বাজার থেকে সব কপি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ জারি করে।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 26 February 2026 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান (NCERT Class VIII Book) বইয়ে বিচারব্যবস্থায় ‘দুর্নীতি’ প্রসঙ্গ তোলায় (Judicial Corruption Chapter) তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও জাতীয় শিক্ষানীতি সংস্থার (NCERT) কাছে জবাবদিহি চেয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দায় স্বীকার না হওয়া পর্যন্ত মামলা বন্ধ হবে না।
ইস্যুটি নিয়ে আদালত বলে, বিষয়টির গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। কারা এই অংশ সংযোজনের জন্য দায়ী, তা খতিয়ে দেখতে হবে। কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সওয়াল করেন। তিনি জানান, অধ্যায়ের যে অংশে বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতির উল্লেখ রয়েছে, তার জন্য দায়ী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাঁরা কোনও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
তবে এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এমন বক্তব্য বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তিতে আঘাত হানে। তাঁর কথায়, এটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেই মনে হচ্ছে। শীর্ষ আদালত বইটি দেশ-বিদেশে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং বাজার থেকে সব কপি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ জারি করে। অনলাইনে সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাগ করে নেওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কেন্দ্র ও সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিনেশ প্রসাদ সাকলানির কাছেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।
শুনানিতে উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে আদালতের কাঠামো ও বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি ও মামলা জটের মতো চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হয়েছে। সেখানে বিচারকদের আচরণবিধি, অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উদ্যোগের কথাও উল্লেখ ছিল। কিন্তু আদালতের মতে, এই উপস্থাপনা প্রাসঙ্গিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেনি।
মেহতা জানান, বাজারে পৌঁছে যাওয়া ৩২টি কপি ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ অধ্যায় সংশোধন করা হবে। বিচারপতি মন্তব্য করেন, সংস্থার প্রেস বিবৃতিতে অনুশোচনার কথা বলা হলেও স্পষ্ট ক্ষমাপ্রার্থনা নেই।
আইনজীবী মহলের একাংশেরও মত, স্কুলস্তরে এমন সংবেদনশীল প্রসঙ্গ যথাযথ বিশ্লেষণ ছাড়া তুলে ধরা উচিত নয়। তাঁদের বক্তব্য, অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশাসনিক কাঠামো পরিচিত করানোই মুখ্য, বিতর্ক নয়।
সব মিলিয়ে, শিক্ষাপাঠ্য ও বিচারব্যবস্থার মর্যাদা - দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষায় কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। এখন নজর, সংশোধিত পাঠ্য কবে প্রকাশ পায় এবং দায় নির্ধারণে কী পদক্ষেপ হয়।