বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনকে (Voter List) ঘিরে ক্রমশই বাড়ছে বিতর্ক। এবার সেই বিতর্ক পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ঘিরে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার যৌথ শুনানি করতে চলেছে শীর্ষ আদালত।

মহুয়া মৈত্র
শেষ আপডেট: 7 July 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনকে (Voter List) ঘিরে ক্রমশই বাড়ছে বিতর্ক। এবার সেই বিতর্ক পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ঘিরে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার যৌথ শুনানি করতে চলেছে শীর্ষ আদালত। সোমবার মামলাগুলি গ্রহণ করে জানানো হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার শুনানি হবে। তার আগে মামলাকারীরা কমিশনকে নোটিস পাঠাতে পারবেন।
মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরেই এই আইনি লড়াই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের (অক্টোবর-নভেম্বর) আগে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধনের কাজ শেষ করতে হবে। এরই অংশ হিসেবে ভোটারদের জন্মের শংসাপত্র এবং বাবা-মায়ের জন্মপ্রমাণ জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে। আধার বা রেশন কার্ড নয়, বার্থ সার্টিফিকেটই দিতে হবে। এই শর্তেই বিরোধীদের আপত্তি। আশঙ্কা, এতে কোটি কোটি মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তাঁর সঙ্গে একযোগে মামলা করেছে এডিআর (Association for Democratic Reforms), পিইউসিএল, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা ও সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব। তাঁদের দাবি, এই নিয়ম সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপন্থী। মহুয়ার আবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এর ফলে দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। আবেদন করেছেন, এই নিয়ম শুধু বিহারেই নয়, অন্যান্য রাজ্যে যাতে প্রয়োগ না হয়, সে ব্যাপারেও সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করুক।
মহুয়ার আইনজীবী হিসাবে মামলায় রয়েছেন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ও সিইউ সিংহ। অন্যদিকে, মনোজ ঝায়ের হয়ে আদালতে লড়বেন কপিল সিব্বল। মামলার শুনানির সময় আইনজীবীরা জানান, অনেক ভোটার যাঁরা বহুবার ভোট দিয়েছেন, তাঁরাও হঠাৎ করে ‘অযোগ্য’ হয়ে যাচ্ছেন নতুন নিয়মে। ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে জন্মের শংসাপত্র না জমা দিলে নাম বাদ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
তবে বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, এখনও বিহারে নির্বাচন ঘোষণা হয়নি। সেক্ষেত্রে সময়সীমা সংক্রান্ত চাপের যৌক্তিকতা নেই। এরই মধ্যে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলও পৃথক মামলা দায়েরের পথে হাঁটছে বলে সূত্রের খবর। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।