প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন ‘জন সুরজ’ পার্টি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে জনপ্রিয় গায়ক-অভিনেতা রীতেশ পাণ্ডে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কারগাহর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 13 October 2025 16:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বঙ্গ রাজনীতির ময়দানে এখন সিনেমা বা সিরিয়ালের বিনোদনী জগতের রমরমা নতুন নয়। সব দলের প্রার্থিতালিকাতেও রুপোলি পর্দার ঝলকানি থাকে। তালিকা নেহাত কম দীর্ঘ হবে না। বিহারের রাজনীতিতেও এখন এই নতুন হাওয়া বইছে। বলিউড নয় (Bollywood), ভোজপুরি (Bhojpuri) তারকাদের রাজনীতি-ডেবিউ নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। কে কোন দলে যাচ্ছেন, কে প্রার্থী হচ্ছেন, কে হচ্ছেন স্টার প্রচারক, নির্বাচনের আগে এই নিয়েই কথাবার্তা চলছে।
প্রশান্ত কিশোরের (Prasant Kishore) নেতৃত্বাধীন ‘জন সুরজ’ পার্টি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে জনপ্রিয় গায়ক-অভিনেতা রীতেশ পাণ্ডে আসন্ন বিধানসভা (Bihar Election) নির্বাচনে কারগাহর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। অন্যদিকে, পবন সিং, যিনি একসময় বিজেপিতে যোগ দিয়ে পরে দল ছাড়েন, সম্প্রতি ফের ঘর ওয়াপসি করেছেন। তবে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এবার ভোটে লড়বেন না। থাকবেন “দলের সত্যিকারের সৈনিক” হিসেবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে পারিবারিক অশান্তির ছায়াও রয়েছে। স্ত্রী জ্যোতি লখনউতে সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে স্বামীকেও ভোটে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
৩৪ বছর বয়সি রীতেশ বলেন, “আমি রোহতাস জেলার ছেলে। ছোট থেকেই সমাজের জন্য কিছু করতে চেয়েছি। মুম্বই গিয়ে দেখেছিলাম, বিহারবাসীদের প্রতি বৈষম্য কেমন। তখনই ঠিক করি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানই হবে আমার লড়াইয়ের মূল কথা।” তাঁর প্রতিটি প্রচারসভায় এখন শোনা যাচ্ছে স্লোগান, “শিক্ষা খুব জরুরি”।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোজপুরি তারকাদের জনপ্রিয়তা রাজনীতিতে ভোটে কতটা রূপ নেবে, সেটাই দেখার বিষয়।
পাটনার সমাজতত্ত্ববিদ অধ্যাপক জ্ঞানেন্দ্র যাদব বলেন, “দক্ষিণ ভারতে যেমন তারকাদের রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়, বিহারে তেমনটা দেখা যায়নি। শত্রুঘ্ন সিনহা ছাড়া কেউ টেকেননি। তবে এ বার ভোটে তারকাদের ঝলক আলাদা রং আনছে।”
রীতেশ পাণ্ডে খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষ। মেডিক্যাল পড়ার বদলে গানই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর গান ‘হ্যালো কউন’ এখনও পর্যন্ত ভোজপুরি গানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শোনা গান (৯০০ মিলিয়ন ভিউয়েরও বেশি)। জন সুরজ পার্টি মনে করছে, তাঁর জনপ্রিয়তাই দলের জন্য ভোটের সম্পদ হবে।
অন্যদিকে, পবন সিং গত বছর কারাকট লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হয়েছিলেন এবং অল্পের জন্য হেরেছিলেন। বিজেপি-র বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য তিনি তখন দল থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে তিনি ফের বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে দলে ফিরেছেন।
ভোজপুরি সুপারস্টার অক্ষরা সিং-এর সঙ্গে বিজেপি সাংসদ গিরিরাজ সিং-এর সাক্ষাৎ ঘিরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তিনি ছবিও পোস্ট করেছেন এক্স-এ লিখেছেন “শিষ্টাচার সাক্ষাৎ”।
তাঁর মতোই, মৈথিলী ঠাকুর, মিথিলা অঞ্চলের লোকগায়িকা, বিজেপির তরফে প্রার্থী হতে পারেন, এমন জল্পনা তুঙ্গে। দলের নেতা বিনোদ তাওড়ে তাঁকে বলেছেন “বিহারের কন্যা”, এবং সূত্র বলছে, তাঁকে মধুবনি বা আলিনগর আসনে টিকিট দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, কেশরীলাল যাদব-এর নাম ঘুরছে আরজেডি শিবিরে। তাঁর স্ত্রী চন্দা যাদবকেও প্রার্থী করার চিন্তা চলছে। কেশরী বলেছেন, “তেজস্বী যাদব আর অখিলেশ যাদব আমার বড় ভাইয়ের মতো। যদি তারা চান, আমার স্ত্রীই প্রার্থী হবেন। আমি প্রচারে থাকব।” শুধু তাই নয়, “জনতার সঙ্গে না থাকলে নেতা হয়ে লাভ কী?” এই বলে কটাক্ষও কোর্টে ছাড়েননি পবন সিংকে।
বিহারের রাজনৈতিক মঞ্চে এখন যেন চলছে এক ভোজপুরি ব্লকবাস্টার শো। কে হিট, কে ফ্লপ— তা সময়ই বলবে।