
হাথরাসের ঘটনার পর 'নিঁখোজ' ভোলেবাবা
শেষ আপডেট: 3 July 2024 15:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ‘সৎসঙ্গ’ অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেক। মঙ্গলবার সন্ধের পর থেকে স্থানীয় হাসপাতালগুলির বাইরে শুধুই কান্নার রোল। হাথরাস জুড়ে শোক আর হাহাকার।
মঙ্গলবার হাথরাসে সৎসঙ্গের আয়োজন করেছিলেন নারায়ণ সাকার হরি ওরফে সাকার বিশ্ব হরি ওরফে ভোলে বাবা। সেই অনুষ্ঠানের শেষেই হুড়োহুড়ি পড়ে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে গেলেও, এখনও দেখা নেই অনুষ্ঠানের আয়োজক ভোলে বাবা-র। এদিক বুধবার সকালেই এই ঘটনার এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যেখানে স্বঘোষিত ধর্মগুরু ভোলেবাবার নাম নেই। শুধুমাত্র মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে দেবপ্রকাশ মধুকরের। তিনি ওই সংস্থার মুখ্য সেবায়েত। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি৷
ইতিমধ্যে আগরার অতিরিক্ত ডিজিপির নেতৃত্বে বিশেষ টিম গঠন করে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হাথরাসে এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। নামানো হয়েছে ডগ স্কোয়াড। ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে। একযোগে কাজ করছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, এনডিআরএফ। মঙ্গলবার রাতের পর বুধবার সকালেও ভোলে বাবার আশ্রমে যায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশাল বাহিনী। কিন্তু এখনও তাঁর কোনও সন্ধান পায়নি পুলিশ।
পুলিশের অনুমান, অনুষ্ঠানের পর ফুলরাই গ্রাম, অর্থাৎ যেখানে ওই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেখান থেকে অন্তত ১০০ কিলোমিটার দূরে মাইনপুরীর আশ্রমে যান ভোলেবাবা। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে সেখানেও ওই ধর্মগুরুকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। মইনপুরির ডিএসপি সুনীল কুমার সিং বলেন, 'আমরা বাবাকে চত্বরে খুঁজে পাইনি। সে এখানে নেই।' বুধবার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।
ইটাহ জেলার পাটিয়ালি তেহশিলে বাহাদুর গ্রামের বাসিন্দা ভোলে বাবা। সেখানেই রয়েছে তাঁর মূল আশ্রম। যদিও শুরু থেকেই সাধু ছিলেন না সুরজ। একটা সময় পর্যন্ত তিনি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে চাকরি করতেন, অন্তত এমনটাই দাবি তাঁর। ২৬ বছর আগে ধর্মীয় উপদেশ দেওয়ার জন্য তিনি নাকি চাকরি ছেড়ে দেন!ধর্ম প্রচারের টাকায় বিভিন্ন জায়গায় সৎসঙ্গের আয়োজন করেন ভোলে বাবা। প্রতি মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে ভোলে বাবার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কয়েক লক্ষ ভক্ত সমাগমের সেইসব সৎসর্গে। মঙ্গলবার তেমনই এক অনুষ্ঠানে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা।
হাথরসের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ছোট জায়গায় বড় জমায়েতের আয়োজন কেন করা হল? নাকি সৎসঙ্গে ছিল না কোনও শৃঙ্খলাই? বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট আয়োজক সৎসঙ্গ কমিটিকেই দায়ী করছেন অনেকে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর হুড়োহুড়ির কারণেই ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান শতাধিক মানুষ। আবার পুলিশের একাংশের অনুমান, ছোট জায়গায় জমায়েত হওয়ার ফলেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এমনও জানা গেছে, বাবা-র গাড়ি না বেরনো পর্যন্ত ভক্তদের ওই জায়গা ছেড়ে যেতে দেওয়া হয়নি। এরপর বেরনোর সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে।