.jpeg)
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার এসএসসি রায়।
শেষ আপডেট: 3 April 2025 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) মাধ্যমে প্রায় ২৬০০০ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায় বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালতও। কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট এ ব্যাপারে এক মত যে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারণে কলুষিত হয়েছে। সেটি আর মোটেও সংশোধনযোগ্য নয়।
এদিন রায় ঘোষণার সময়ে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না বলেন, “আমাদের মতে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটিতে এমন ভাবে প্রতারণা হয়েছে যা সংশোধনের অযোগ্য। বৃহৎ পরিসরে জালিয়াতি হয়েছে। তথ্য গোপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গোটা প্রক্রিয়াটিই চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈধতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে।"
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ—
সুপ্রিম কোর্ট বিশেষভাবে পরীক্ষা করেছে যে প্রাথমিক ওএমআর (OMR) উত্তরপত্রগুলোর স্ক্যানিংয়ের নির্ভরযোগ্যতা কতটুকু, কারণ মূল উত্তরপত্রগুলোর সাথে কারসাজি হয়েছে কিনা তার কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। এসএসসি একটি বেসরকারি সংস্থাকে (NYSA Communications) ওএমআর উত্তরপত্র স্ক্যান ও মূল্যায়নের জন্য নিযুক্ত করেছিল। কিন্তু পরে ওই সংস্থার আর একটি বেসরকারি সংস্থাকে(, DATA Scantech Solutions, NOIDA) এই কাজের বরাত দেয় । সিবিআই জানিয়েছে, উত্তরপত্রের ডিজিটাল কপি NYSA-র কাছে জমা পড়লেও মূল হার্ড কপি এসএসসি-র (SSC) অফিসেই ছিল।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সিবিআই তদন্তে প্রাক্তন নিসা ( NYSA) কর্মী পঙ্কজ বানসালের কাছ থেকে তিনটি হার্ড ডিস্ক উদ্ধার করা হয়, যেখানে স্ক্যান করা ওএমআর ডেটার রেকর্ড ছিল। তদন্তে দেখা যায়, SSC-এর সার্ভার ও বানসালের সংরক্ষিত সার্ভারে নম্বরের অমিল ছিল।
CBI-এর রিপোর্টে বলা হয়, "এসএসসি-র সার্ভারে সংরক্ষিত নম্বরগুলি বেআইনিভাবে বাড়িয়ে এমন অনেক প্রার্থীদের যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে অকৃতকার্য ছিলেন। এটি স্পষ্টভাবে পরীক্ষার নম্বর কারসাজির প্রমাণ।"
সুপ্রিম কোর্ট এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে বলেছিল, অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন ফেরত দিতে হবে এবং সিবিআই তদন্ত চলবে। তবে সিবিআই কাউকে জোরপূর্বক গ্রেফতার করতে পারবে না।
প্রার্থীদের পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী বিভা মাখিজা আদালতে বলেন, সম্পূর্ণ নিয়োগ বাতিল না করে কেবলমাত্র বেআইনি নিয়োগপ্রাপ্তদের বাদ দেওয়া উচিত এবং তাঁদের স্থলে মেধাতালিকার পরবর্তী প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ, নতুন নিয়োগ হলে অনেকেরই চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ এসএসসি-র পক্ষে জয়দীপ গুপ্তা যুক্তি দেন যে হাইকোর্ট ভুলভাবে ধরে নিয়েছে যে এসএসসি তদন্তে সহযোগিতা করেনি।
যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের পক্ষে আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরা যুক্তি দেন, যাঁদের অবৈধ বলা হচ্ছে, ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার জন্য তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
তবে প্রধান বিচারপতি এই যুক্তি খারিজ করে বলেন— "এই মামলা রাজ্যের রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন।"