২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পলাতকদের ধরতে তল্লাশি জারি রয়েছে। বাকি চুরি যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ভুয়ো ইডি হানায় অভিযুক্তরা
শেষ আপডেট: 26 February 2026 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক যেন বলিউড ছবি 'স্পেশাল ২৬'-এর কাহিনি (Bollywood movie Special 26 style heist)! সিনেমার কায়দায় সাজানো ভুয়ো ইডি হানা (Fake ED raid Delhi robbery) - আর সেই ছকের নেপথ্যে বাড়িরই গৃহ সহায়িকা! নিখুঁত পরিকল্পনা, ইউনিফর্ম, ভুয়ো পরিচয় এবং শেষে সহযোগীদের সঙ্গে মিলে লক্ষাধিক টাকা নগদ ও দামী জিনিসপত্র লুট - সব মিলিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজধানীতে (domestic help crime fake ED raid Delhi)।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই গৃহকর্মী রেখা দেবী-সহ দুই মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিন জন পুরুষ অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন কর্মরত ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বা আইটিবিপি-র (Indo-Tibetan Border Police) জওয়ান এবং এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী।
কীভাবে ঘটল ‘ভুয়ো অভিযান’?
চলতি মাসের শুরুতে পুলিশের উর্দিধারী তিন ব্যক্তি জোর করে ঢুকে পড়ে দিল্লির নিউ ফ্রেন্ডস কলোনির এক বৃদ্ধের বাড়িতে। নিজেদের ইডি অফিসার বলে দাবি করে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো হয়, তাঁদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপর শুরু হয় ঘরের ভিতর তল্লাশির নামে নাটক।
লুট চলছিল কিন্তু সেই সময়ই হঠাৎ বৃদ্ধের নাতি ঘটনাস্থলে পৌঁছন, ফলে অভিযুক্তরা পালাতে বাধ্য হয়। তবে পালানোর সময় তারা আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা নগদ এবং সাতটি বিলাসবহুল ঘড়ি নিয়ে চম্পট দেয়।
এরপরই তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারীরা পুলিশ নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি এলাকার ব্যক্তিগত ক্যামেরা এবং হাই-স্পিড ট্রাফিক ক্যামেরার-সহ ৩৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেন। সেই সমস্ত ফুটেজ জোড়া লাগিয়ে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি ট্র্যাক করা হয়। দেখা যায় তারা ঘটনাস্থল থেকে গাজিপুর সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর প্রদেশে ঢুকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সূত্র মেলে গাজিয়াবাদে, যেখানে ব্যবহৃত গাড়িটি পার্ক করা অবস্থায় পাওয়া যায়।
মোবাইল টাওয়ার ডেটা থেকে বড় সূত্র
গাড়ির হদিশ পাওয়ার পর তদন্তকারীরা মোবাইল টাওয়ার ডাম্প ডেটা এবং IMEI ট্র্যাকিং ব্যবহার করে সন্দেহভাজন নম্বর চিহ্নিত করেন, যেগুলি ঘটনাস্থল ও গাড়ি পার্কিংয়ের সময় সক্রিয় ছিল। জানা গিয়েছে, ঘটনায় ব্যবহৃত বালেনো গাড়িটি থাপার নামে নথিভুক্ত।
পুলিশের এই বিশ্লেষণ গিয়ে পৌঁছয় পুজা রাজপুত নামে এক মহিলার বাড়িতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারীর গৃহ সহায়িকা রেখা দেবী নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। পরে পুলিশ নিশ্চিত হয়, পুজা রাজপুত আসলে রেখা দেবীর ভাসুরবউ।
অভিযানে উদ্ধার ইউনিফর্ম, ভুয়ো পরিচয়পত্র
বুধবার পুজা রাজপুতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে -
এছাড়াও উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া গয়না ও সাতটি বিলাসবহুল ঘড়ি, যা সরাসরি লুটের ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগ প্রমাণ করে।
৪০ বছরের রেখা দেবীকে লুটের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাঁর ভাসুরবউ পুজা রাজপুতকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে প্রকাশ (কর্মরত আইটিবিপি কনস্টেবল), মনীশ এবং উপদেশ সিং থাপা (অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী), এই তিন জন পুরুষ অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
পলাতকদের ধরতে তল্লাশি জারি রয়েছে। বাকি চুরি যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।