রাজা ও সোনমের বিয়ে হয় গত ১১ মে, ইন্দোরে। এরপর তাঁরা মধুচন্দ্রিমায় যান মেঘালয়ে। ২ জুন একটি ২০০ ফুট গভীর খাদ থেকে রাজার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

ডানদিকে সোনমের ভাই
শেষ আপডেট: 11 June 2025 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হানিমুনে গিয়ে স্বামীকে খুন করেছেন সোনম রঘুবংশী। প্রতিবেশী, মৃত রাজা রঘুবংশীর পরিবার বা অন্য কেউ এমন অভিযোগ আনেননি। এনেছেন সোনমের নিজের ভাই গোবিন্দ রঘুবংশী। এত দিন পর্যন্ত সোনমের পরিবার— এমনকি তাঁর মা-বাবাও মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ ছিলেন। কিন্তু বুধবার গোবিন্দ স্পষ্ট বললেন, 'এই খুন সোনমই করেছে। আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।'
ইন্দোরে রাজা রঘুবংশীর মায়ের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গোবিন্দ বলেন, 'সোনম এখনও সেভাবে খুনের কথা স্বীকার করেনি ঠিকই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যে সব প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তা ওর সরাসরি জড়িত থাকার দিকেই ইঙ্গিত করছে।'
রাজা ও সোনমের বিয়ে হয় গত ১১ মে, ইন্দোরে। এরপর তাঁরা মধুচন্দ্রিমায় যান মেঘালয়ে। ২৩ মে তাঁরা শেষবারের মতো মেঘালয়ের নংরিয়াট গ্রামের একটি হোমস্টে থেকে চেক আউট করেন। ১০ দিন পর, একটি ২০০ ফুট গভীর খাদ থেকে রাজার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দু’বার কোপানো হয়েছিল— একবার সামনে থেকে, একবার পেছন দিক থেকে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, রাজাকে খুন করেছে তিনজন— বিশাল সিং চৌহান, আকাশ রাজপুত এবং আনন্দ কুর্মি। এই তিনজনই সোনমের কথিত প্রেমিক রাজ কুশওয়ার ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর নির্দেশেই কাজ করেছিল বলে অনুমান। বর্তমানে চার জনই পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছিলেন ইন্দোরের তরুণী। অবশেষে ৮ জুন, ঘটনার ১৪ দিন পর উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থানায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি। বর্তমানে ট্রানজিট রিমান্ডে রয়েছেন।
গোবিন্দ এদিন আরও বলেন, 'এই মামলার সব অভিযুক্তই রাজ কুশওয়ার ঘনিষ্ঠ। আমরা সোনম রঘুবংশীর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। আমি রাজার পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইছি।' তাঁর বক্তব্য, সোনম তাঁদের মাকে কোনও দিন জানায়নি রাজ কুশওয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা। জানলে, কোনও দিনই এই বিয়েটা তাঁরা দিতেন না।
সোনম ও রাজার বিয়ে নিয়ে উঠেছিল তাড়াহুড়োর অভিযোগও। তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে গোবিন্দ বলেন, 'এক জন পুরোহিত মহূর্ত দেখে এই তারিখ ঠিক করেছিলেন। তাই আমরা তখনই বিয়েটা সেরে ফেলি।'
নিজের বোনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিও তুলেছেন গোবিন্দ। তাঁর কথায়, 'যে এই খুন করেছে, তার কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত— প্রয়োজনে ফাঁসি পর্যন্ত।'