আংমোর দাবি, হিংসার ঘটনা শুরু হতেই ওয়াংচুক অনশন ভেঙে শান্তির আবেদন জানান। যদি উসকানি দেওয়ার ইচ্ছে থাকত, তবে তিনি আরও এগোতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

গীতাঞ্জলী এবং সোনম ওয়াংচুক
শেষ আপডেট: 29 September 2025 09:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখের অশান্তির (Ladakh Protest) ঘটনায় সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিস্ফোরক অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন তাঁর স্ত্রী। বললেন, বিগত কয়েক বছর ধরে তাঁর স্বামীকে হয়রানি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নিশানায় কেন্দ্রই।
সোনমের স্ত্রী ও সমাজসেবী গীতাঞ্জলি জে আংমো (Gitanjali j Angmo) স্বামীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রের আনা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছেন। আংমোর অভিযোগ, সরকারের তরফে তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি (Witch Hunt) করা হচ্ছে।
চার বছর ধরে হয়রানি
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আংমো জানান, লাদাখ নিয়ে দাবি জোরালো করার পর থেকেই সরকারি সংস্থার চাপ বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, ‘‘চার বছর আগে থেকেই গোয়েন্দা আধিকারিকরা হুমকি দিতে শুরু করেছিলেন। বিদেশি অনুদান নেওয়ার লাইসেন্স মেলেনি। আমাদের সংস্থা হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অব অল্টারনেটিভস, লাদাখ (এইচআইএএল) ও সেকমলকে টার্গেট করা হয়।’’
গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ওয়াংচুক প্রতিষ্ঠিত সেকমলের এফসিআরএ লাইসেন্স (FCRA Licence) বাতিল করেছে। অভিযোগ, বিদেশি অনুদান ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব’ সংক্রান্ত গবেষণায় ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু আংমোর দাবি, ‘‘এটা খাবারে স্বনির্ভরতা বা ফুড সোভারেনিটি নিয়ে গবেষণা ছিল। বিষয়টিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হচ্ছে।’’
পাকিস্তান সংক্রান্ত অভিযোগ
লাদাখ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল এস ডি সিংহ জামওয়ালের অভিযোগ, ওয়াংচুক পাকিস্তানে ডন–এর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এবং এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে আংমো পাল্টা বলেন, ‘‘যদি সত্যিই কোনও পাক গোয়েন্দা আধিকারিক এখানে ঘোরাফেরা করে থাকেন, তবে সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্যর্থতা। উলটে তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে।’’
তিনি জানান, ওয়াংচুক ‘ব্রিদ পাকিস্তান’ শীর্ষক একটি পরিবেশ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন, যা জাতিসংঘের উদ্যোগে হয়েছিল। ‘‘এখানে জলবায়ু পরিবর্তন ও হিমবাহের সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিবেশ উদ্যোগের প্রশংসাও করেছিলেন সোনম।’’
হিংসার দায় চাপানো অন্যায়
আংমোর দাবি, হিংসার ঘটনা শুরু হতেই ওয়াংচুক অনশন ভেঙে শান্তির আবেদন জানান। যদি উসকানি দেওয়ার ইচ্ছে থাকত, তবে তিনি আরও এগোতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। নিহতদের পরিবারও বলেছেন, ওয়াংচুক দায়ী নন। তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছিলেন, অন্য পার্কে বসে অনশন করছিলেন।
এফসিআরএ দিয়ে ব্ল্যাকমেল
আংমো অভিযোগ করেন, প্রথম অনশনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এফসিআরএ-কে ‘চাপ সৃষ্টি করার হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ‘‘প্রতিদিন আমাদের বাড়িতে আসত আইবি। বলত, যদি আন্দোলন চালাও, তবে বিদেশি অনুদানের লাইসেন্স বাতিল হবে। সোনম তখনই বলেছিলেন, বিদেশি অর্থ না এলেও চলবে। আমরা নির্ভরশীল নই।’’
গীতাঞ্জলি আংমোর সাফ কথা, ‘‘আমার স্বামী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তান-যোগ বা হিংসার উস্কানির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটা নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়।’’
কেন্দ্র অবশ্য আগেই দাবি করেছিল, আরব স্প্রিং ও নেপালের 'জেন জি' আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ওয়াংচুক উত্তেজনা ছড়িয়েছেন। তাঁদের মতে, যাঁরা কেন্দ্র-লাদাখের চলতি আলোচনায় খুশি নন, তাঁরাই হিংসাকে উস্কে দিয়েছেন।