১৯৯৬ সালের অক্টোবরে সাইনি ভাইরা সিদ্ধান্ত নেন, বিমানের চাকায় লুকিয়েই পৌঁছে যাবেন ব্রিটেনে। দু’জনেই তখন পাঞ্জাবে গাড়ির মেকানিকের কাজ করতেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 September 2025 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর (Afghan Boy) সকলকে অবাক করে দিয়েছে। কারণ বিমানের চাকার খাঁজে (Wheel Well) লুকিয়ে কাবুল (Kabul) থেকে দিল্লি (New Delhi) যাত্রা করে পৌঁছেছে সে। তার এই বিপজ্জনক এবং দুঃসাহসিক কাজ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু এই ঘটনা প্রথম নয়, এর আগেও ঘটেছে। তা সম্পর্কে জানতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে তিন দশক।
সেবার একজন নয়, যাত্রী ছিলেন দু'জন এবং তাঁরা ভারতীয় (Two Indians)। পাঞ্জাবের (Punjab) দুই যুবক প্রদীপ সাইনি (২৩) ও তাঁর ছোট ভাই বিজয় সাইনি (১৯) দুঃসাহসিক কাজ করেছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল লন্ডন। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর চেষ্টার পরিণতি হয়েছিল মর্মান্তিক।
কেন ঝুঁকি নিয়েছিলেন দুই ভাই
১৯৯৬ সালের অক্টোবরে সাইনি ভাইরা সিদ্ধান্ত নেন, বিমানের চাকায় লুকিয়েই পৌঁছে যাবেন ব্রিটেনে (UK Flight)। দু’জনেই তখন পাঞ্জাবে গাড়ির মেকানিকের কাজ করতেন। ভিসা পাওয়ার আশা ছিল না, ভ্রমণের খরচও জোগাড় হয়নি। স্থানীয় এক এজেন্টকে ১৫০ পাউন্ড দিয়েছিলেন। তিনি ভুলভাল আশ্বাস দেন — চাকার জায়গায় লুকনো যাবে এবং সেভাবেই সরাসরি লাগেজ কম্পার্টমেন্টে ঢোকা সম্ভব। বাস্তবে এমন কোনও পথ নেই।
প্রদীপ পরে জানান, অন্ধকারে তাঁরা দিল্লি রানওয়েতে গিয়ে প্রথম যে বিমানের কাছে পৌঁছন, সেটিতেই চড়ে বসেন। সেটি ছিল একটি বোয়িং ৭৪৭ জেট। যাত্রীরা প্রস্তুত ছিলেন ১০ ঘণ্টার দীর্ঘ উড়ানের জন্য। আর ওই চাকার জায়গায় লুকিয়ে থেকে শুরু হয়েছিল দুই ভাইয়ের নরকযাত্রা।
ভয়ঙ্কর রাত
উড়ানের কিছু পরই চাকা গরম হওয়ার কারণে পুড়ে গেছিল তাঁদের শরীর। এরপর মিনিটের মধ্যে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৬০ ডিগ্রিতে, বাতাস ঝড়ের গতিতে বইতে থাকে। পাতলা জামা-জ্যাকেট পরা দুই যুবক দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন। বিজয় ঠিক কখন মারা যান, তা বুঝতেও পারেননি প্রদীপ। তাঁর শেষ স্মৃতি ছিল বিমান ওঠার কিছুক্ষণ পরের।
লন্ডনে অবতরণের আগেই প্রায় ২ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিজয়ের দেহ পড়ে যায় বিমান থেকে। কয়েক দিন পর সারের এক প্রান্তে মিলেছিল তাঁর দেহাংশ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে যান প্রদীপ। চিকিৎসকরা বলেছিলেন, তিনি সম্ভবত 'সাসপেন্ডেড অ্যানিমেশন' অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন - যার ফলে দেহের সাধারণ প্রক্রিয়া প্রায় থমকে গিয়েছিল। সেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যাতীত ঘটনাই তাঁকে বাঁচিয়ে দেয়।
কিন্তু বেঁচে গিয়েও শান্তি পাননি প্রদীপ। বছরের পর বছর দুঃস্বপ্নে ভাইয়ের নাম ধরে চিৎকার করে উঠতেন। তাঁর কাকার বক্তব্য ছিল, ‘‘অনেকে বলে, সে ভাগ্যবান। কিন্তু ভাই হারানোর যন্ত্রণা তাঁকে মনে করায়, হয়তো মারা গেলেও ভালো হত।’’
নতুন জীবন লন্ডনে
প্রথমে ব্রিটেনে আশ্রয়ের আবেদন খারিজ হলেও, মানবিক কারণে রাজনৈতিক নেতাদের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত প্রদীপকে জায়গা দেওয়া হয় সেখানে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর লন্ডনে থিতু হন তিনি। কাজ শুরু করেন হিথরো বিমানবন্দরে। বর্তমানে তাঁর বয়স ৫০-এর কাছাকাছি। তবে আজ প্রদীপের অবস্থান কোথায়, তা স্পষ্ট জানা যায়নি।