তিস্তা সংলগ্ন বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভেবেছে প্রশাসন। তাদের ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 June 2025 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেঘভাঙা বৃষ্টি, ধস এবং হড়পা বান। বিগত কয়েকদিনে এর জেরে বিপর্যস্ত গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত (North East India)। অসম, মেঘালয়, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে কার্যত হাহাকার শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া। পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধারকাজে নেমেছে ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Army) এবং অসম রাইফেলস (Assam Rifles)। ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম পছন্দের জায়গা সিকিমের পরিস্থিতিও চূড়ান্ত খারাপের দিকে যাচ্ছে।
আইএমডি ইতিমধ্যেই সিকিমের (Sikkim) জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে। প্রবল বন্যা পরিস্থিতির জন্য রাজ্যের বেশিরভাগ প্রান্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে কারণ সড়কপথে ধস নেমেছে। এদিকে তিস্তার জলস্তরও ক্রমশ বাড়ছে। খুব শীঘ্রই তা বিপদসীমা পেরিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা।
তিস্তা সংলগ্ন বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভেবেছে প্রশাসন। তাদের ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ডিকচু, সিংথামের মতো এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রচুর মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
সিকিমের প্রশাসন রাজ্যের আম বাসিন্দা তো বটেই সেখানে আসা পর্যটকদেরও আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সম্পূর্ণ চেষ্টা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। হেল্পলাইন নম্বর থেকে শুরু করে ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থা সবই করা হয়েছে। এই মুহূর্তে শুধু সকলকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে কারণ এমন আবহাওয়া আগামী বৃহস্পতি-শুক্রবার পর্যন্ত থাকবে বলে আভাস মিলেছে।
উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসম, মণিপুর। অসমের ১৯টি জেলার ৭৬৪টি গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। রাজ্যের কাছাড় জেলাতেই শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ১ লক্ষ। সে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৫০-র বেশি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে তাতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে, মণিপুরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ইম্ফলবাসী। উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্য এবং সিকিম মিলিয়ে অন্ততপক্ষে দু থেকে আড়াই হাজারের বেশি পর্যটক আটকে রয়েছেন। তিস্তার পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্রের জলস্তর হু-হু করে বাড়ছে। আশঙ্কা, এই বৃষ্টি চলতে থাকলে নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইবে।