
বুধবার রাহুল-সনিয়া গান্ধীর বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ বিজেপি-পন্থী শিখ সংগঠনের।
শেষ আপডেট: 11 September 2024 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় বসে ভারতে শিখ ধর্মাচরণের অধিকার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায় শিখ সংগঠন। বিরোধী দলনেতা রাহুলকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, এই দাবিতে বিজেপির নেতৃত্বে শিখ সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। বিজেপির শিখ সংগঠন শিখ প্রকোষ্ঠের সদস্যরা এদিন রাহুল-সনিয়া গান্ধীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পুলিশ ব্যারিকেড করে তাঁদের আটকায়। এই সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সামান্য ধস্তাধস্তিও হয়।
আইন ভাঙায় বিজেপি নেতা আরপি সিং সহ বেশ কয়েকজন শিখ নেতাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। আরপি সিং বলেন, রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাইতে হবে। ভারতের মুখে কালি মাখাতে তিনি সবসময় বিদেশের মাটিকে ব্যবহার করেন। তিনি মিথ্যা বলেছেন যে, ভারতে শিখদের পাগড়ি কিংবা কড়া অর্থাৎ বালা পরতে দেওয়া হবে না।
মহিলা সহ প্রতিবাদকারীরা স্লোগান দিতে দিতে প্ল্যাকার্ড হাতে ১০ জনপথের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। প্রসঙ্গত, কংগ্রেস সাংসদ তথা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর শিখদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্যের প্রশংসা করেছেন নিষিদ্ধ খলিস্তান জঙ্গি সংগঠন শিখস ফর জাস্টিসের সহ প্রতিষ্ঠাতা গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুন। তা নিয়েও বিজেপি-পন্থী শিখ নেতাদের মধ্যে বিস্তর ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। খলিস্তানপন্থী এই নেতা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভারতে শিখদের অস্তিত্বরক্ষার সংকট নিয়ে রাহুলের বক্তব্য শুধু কঠিন সত্যই নয়, স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে শিখদের উপর যে অন্যায়-অবিচার চলছে তার বাস্তবিক চিত্র। আমরাও ভারতে শিখদের স্বাধীনতা চাই, শিখদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রগঠন চাই।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, কংগ্রেস এমপি ফের অবিবেচকের মতো কথা বলেছেন। দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্যে পান্নুনের মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা তো আশকারা পাবেই। সূত্রের দাবি, এদেশে কোনও শিখ অখুশি নয়। আর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও ক্ষোভ-অভিযোগ থাকলে তা তো দেশের মাটিতেই মেটানো যেতে পারে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী রাহুলের নিন্দায় বলেন, তাঁর কথার সঙ্গে খলিস্তানি জঙ্গি পান্নুনের দাবির মিল রয়েছে। উনি কি পান্নুনের সঙ্গেও দেখা করেছেন নাকি, প্রশ্ন তুলেছেন পুরী। বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালাও বলেন, কংগ্রেস আবার জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। পাগড়ি নিয়ে তাঁর মন্তব্যে দেশের শিখদের মধ্যে কোনও প্রভাব পড়েনি। কিন্তু বিদেশে লুকিয়ে বসে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠনগুলির সুবিধা হয়ে গিয়েছে। ওরা সমর্থন করছে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে।