উত্তর টেক্সাসের বাসিন্দা সিদ্ধার্থ ও সুনীতা মুখোপাধ্যায় (Sidhartha “Sammy” Mukherjee and Sunita Mukherjee) নামে এক বাঙালি দম্পতির বিরুদ্ধে ৪ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৩ কোটি টাকা) প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

শেষ আপডেট: 21 July 2025 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড স্টাইল পারফরম্যান্স আর ঝকঝকে লাইফস্টাইলের জন্য পরিচিত ছিলেন যাঁরা— এখন তাঁরাই আমেরিকার আইসিই (ICE) ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি। উত্তর টেক্সাসের বাসিন্দা সিদ্ধার্থ ও সুনীতা মুখোপাধ্যায় (Sidhartha “Sammy” Mukherjee and Sunita Mukherjee) নামে এক বাঙালি দম্পতির বিরুদ্ধে ৪ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৩ কোটি টাকা) প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। আমেরিকায় প্রাবসী বাঙালি মহলে সিদ্ধার্থ স্যামি নামেও পরিচিত।
স্থানীয় মিডিয়া ও তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দম্পতি ১০০-রও বেশি মানুষকে ভুয়ো রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে বিনিয়োগ করিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হত জাল কনট্র্যাক্ট, নকল ইনভয়েস এবং ডালাস হাউজিং অথরিটির নামাঙ্কিত ভুয়ো কাগজপত্র। প্রথমে লভ্যাংশের চেক এলেও পরে তা বাউন্স করতে শুরু করে। তখনই সন্দেহের সূচনা।

২০২৪ সালে এক দম্পতি ৩.২৫ লক্ষ ডলার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ইউলেস থানার গোয়েন্দা ব্রায়ান ব্রেনান তদন্তে নামেন। পরে তদন্তে যুক্ত হয় এফবিআইও।
তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু রিয়েল এস্টেট নয়— কোভিডকালীন সরকারি ত্রাণ প্রকল্পের ঋণ হাতানোর জন্য মিথ্যে কাগজপত্রও জমা দিয়েছিল মুখোপাধ্যায় দম্পতি। সেখানে দেখানো হয়েছিল ভুয়ো কর্মচারী ও বেতন সংক্রান্ত তথ্য। এমনকি কিছু বয়স্ক নাগরিককে মিথ্যে ‘গ্রেফতারি হুমকি’ দিয়ে ইমেলে টাকা আদায়ের চেষ্টাও করে তারা।
২০২৪ সালে তাঁরা নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেন। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন সিদ্ধার্থ ও সুনীতা। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন— এই প্রতারণায় পাওয়া অর্থ ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টে বা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
আরও চমকপ্রদ তথ্য হল সিদ্ধার্থর বিরুদ্ধে মুম্বইয়েও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এখন যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাঁদের ৫ বছর থেকে শুরু করে ৯৯ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। একসময়ের ‘গ্ল্যামার কাপল’ আজ ঠকবাজির অভিযোগে আন্তর্জাতিক শিরোনামে।