
প্রেমিকের সঙ্গে প্রীতি
শেষ আপডেট: 3 April 2025 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির কুশওয়াহা পরিবারের জন্য ছিল সাধারণ দিন। সাধারণ ছুটির রোব্বার। পরিবারের ছোট মেয়ে প্রীতি কুশওয়াহা বাড়িতে একাই ছিলেন, কারণ তার বাবা-মা এবং বড় ভাই-বোন বাইরে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায়, প্রীতির মা তাঁর কাছ থেকে একটি ফোন পান। তিনি জানিয়েছিলেন, রুটি বানানো আছে, বাড়ি ফিরে মা যেন খেয়ে নেন। কিন্তু প্রীতির মা যখন বাড়ি ফিরলেন, তখন যা দেখলেন, তা ভাষায় মর্মান্তিক। প্রীতির নিথর দেহ ঝুলছিল সিলিং ফ্যান থেকে।
পরিবারের অভিযোগ, এক দূরসম্পর্কের ভাইয়ের সঙ্গে প্রেমঘটিত সম্পর্কের কারণেই প্রীতি আত্মঘাতী হয়েছেন।
১৮ বছর বয়সি প্রীতি দিল্লির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। দুই বছর আগে পরিবারের সঙ্গে তিনি গ্রামের বাড়িতে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে যান। সেখানেই তাঁর দেখা হয় দূরসম্পর্কের ভাইয়ের সঙ্গে। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং একপর্যায়ে তাঁরা গোপনে বিয়ে করে নেন।
এই সম্পর্কের কথা পরিবার জানত না। কিন্তু প্রীতির মৃত্যুর পর তাঁর এক বান্ধবী তাঁদের ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং বেশ কিছু ছবি সামনে আনেন। চ্যাটে প্রীতি তাঁর প্রেমিককে 'হাজব্যান্ড জি' (স্বামীজি) বলে সম্বোধন করতেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের একটি চ্যাটে তিনি প্রেমিককে 'রিঙ্কু জি' বলেও উল্লেখ করেন।
একটি ছবিতে দেখা যায়, প্রেমিক প্রীতির সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন রিঙ্কু, যা তাদের গোপন বিয়ের প্রমাণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, সম্প্রতি প্রীতি তাঁর ঢলঢলে লম্বা চুল কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পরিবারের সঙ্গে এইনিয়ে বচসা হয়। ঝামেলা হয় দিদির সঙ্গে। তিনি হঠাৎই হুমকি দেন, বেশি কিছু বললে মাথা মুড়িয়ে দেবেন। এই শুনে বাড়িতেই চুল কেটে দেন পরিবারের লোকজন। পরে জানা যায়, তাঁর প্রেমিক প্রায়ই বলতেন, 'তুমি খুব সুন্দর। যদি অন্য কেউ তোমায় পছন্দ করে ফেলে, আমি কী করব?'
পরিবারের দাবি, তিনি প্রেমিকের প্রতি ভালবাসা দেখাতে চুল কেটে ফেলেন। কিন্তু তাও সম্পর্ক ধরে রাখতে পারেননি। চ্যাট থেকে জানা যায়, প্রেমিক ব্লক করে দেন কিছুদিন আগে, সম্পর্কও রাখতে চাননি। তাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টাও করেন কিন্তু শেষে চরম সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের অভিযোগ, সমস্ত বিষয় পুলিশকে জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি। কেউ কোনও পদক্ষেপ করেনি। প্রীতির প্রেমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও কেউ তাঁকে ধরেনি। তরুণীর পরিবার এখন চায়, বিচার আসুক।