ভাইয়ের বিয়েতে অংশ নেওয়া এবং অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার জন্য এই জামিন দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

শারজিল ইমাম
শেষ আপডেট: 9 March 2026 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গা ষড়যন্ত্র (Northeast Delhi riots 2020) মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছাত্র আন্দোলনকর্মী ছিলেন শারজিল ইমাম (Sharjeel Imam)। ব্যক্তিগত কারণে তাঁর ১০ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করল দিল্লির একটি আদালত (Sharjeel Imam interim bail Delhi riots)।
ভাইয়ের বিয়েতে অংশ নেওয়া এবং অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার জন্য এই জামিন দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট একই মামলায় শারজিল ইমাম এবং সহ-অভিযুক্ত উমর খালিদ (Umar Khalid)-এর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল (Delhi riots conspiracy case Supreme Court)।
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলার প্রেক্ষাপট
শারজিল ইমাম সেই সব অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম, যাদের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হিংসার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই দাঙ্গায় মোট ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।
এই ঘটনার তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (CAA)-এর বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনের সময় জনশৃঙ্খলা ভাঙার উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পিত ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল ছিল ওই হিংসা।
সুপ্রিম কোর্টে জামিন খারিজ
এই বছরের জানুয়ারিতে শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের (Umar Khalid Delhi riots case) জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয় এমন পর্যাপ্ত তথ্য প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে জমা পড়েছে।
তবে একই মামলায় অন্য পাঁচ অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা হলেন গুলফিশা ফাতিমা, মিরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সালিম খান এবং শাদাব আহমেদ।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ওই পাঁচ অভিযুক্তের ভূমিকা খালিদ ও ইমামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের থেকে ভিন্ন।
ইউএপিএ-সহ একাধিক ধারায় মামলা
দিল্লি দাঙ্গা ষড়যন্ত্র মামলায় শারজিল ইমাম-সহ একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ (UAPA)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তৎকালীন ইন্ডিয়ান পিনাল কোডের (IPC) বিভিন্ন ধারাতেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনই এই ষড়যন্ত্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন। তাদের বক্তব্য, বিভিন্ন বক্তৃতা, নথি এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে।