অতুল সুভাষ
শেষ আপডেট: 15 December 2024 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুতে প্রযুক্তি কর্মী অতুল সুভাষের (Atul Subhas) আত্মহত্যার তদন্ত শুরু করতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে আসছে পুলিশের। রবিবার সাতসকালে তাঁর স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এবার জানা যাচ্ছে মৃত্যুর আগে গুগল ড্রাইভের একাধিক লিঙ্ক অতুল শেয়ার করেছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই লিঙ্ক উধাও হয়ে গেছে।
শেয়ার্ড গুগল ড্রাইভ থেকে হারিয়ে যাওয়া ফাইলগুলির মধ্যে ২৪ পাতার সুইসাইড নোট যেমন ছিল তেমনই বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করে ‘টু মিলর্ডস’ নামে একটি লেখাও ছিল। অতুলের মৃত্যুর পর ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে বিচার ব্যবস্থা নিয়েও। এর মাঝে আচমকা তথ্য উধাওয়ের বিষয়টি খুব একটা ভাল চোখে দেখছেন না তদন্তকারীরা। জানা গেছে, পুলিশ ধৃতদের এ বিষয়ে শীঘ্রই জেরা করতে পারে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শেয়ার্ড ড্রাইভে ক্লিক করলেই সেখানে এখন ‘ডেথ নোজ নো ফিয়ার’ নামে একটি কবিতা দেখা যাচ্ছে। যা দেশের রাষ্ট্রপতিকে লিখেছিলেন তিনি এবং বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন স্ত্রী নিকিতা সিংহানিয়া যা যা অভিযোগ করেছেন সবটাই মিথ্যে। এছাড়া অতুলের শেয়ার করা বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও রাতারাতি অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে গেছে বলে খবর। বেঙ্গালুরু পুলিশকে রীতিমতো ভাবাচ্ছে বিষয়টা।
যদিও কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী অতুলের পোস্ট আগে থেকেই সেভ করে রাখেন। তাঁরাই পরবর্তীতে নারকীয় বিষয়টি তুলে ধরতে সেগুলি সামনে নিয়ে আসছেন। কিন্তু বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে লেখার জন্য আত্মহত্যার আগে নিজে থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অতুল নাকি পুরোটাই স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের কারসাজি তা সময় বলবে। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে একের পর এক রহস্য সামনে আসছে।
গত সোমবার বেঙ্গালুরুর বাড়িতে ৩৪ বছর বয়সি অতুল সুভাষের দেহ উদ্ধার হয়। মৃত্যুর আগে তিনি একটি ২৪ পাতার সুইসাইড নোট লিখে যান, যেখানে তাঁর শেষ ইচ্ছাগুলির মধ্যে একটি ছিল, 'আমার সন্তানের দায়িত্ব আমার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হোক। ওঁরা ছেলেকে সুস্থ মূল্যবোধ-সহ বড় করবেন।'
ওই সুইসাইড নোটে উল্লিখিত স্ত্রী নিকিতা সিংহানিয়া, তার মা নিশা, ভাই অনুরাগ এবং কাকা সুশীল সিংহানিয়ার বিরুদ্ধে প্রভূত অভিযোগ ছিল হেনস্থার। অতুল অভিযোগ করেন, যে নিকিতা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা গার্হস্থ্য হিংসার মামলা দায়ের করেছিলেন এবং ৩ কোটি টাকা চেয়েছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নিকিতা ও তাঁর পরিবারকে গ্রেফতার করে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে আসা হয়েছে, ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে আছেন তাঁরা। তবে নিকিতার কাকা সুশীল সিংহানিয়া এখনও পলাতক।