সাত বছর পরও পুলওয়ামার (Pulwama Terror attack) স্মৃতি তাজা, কিন্তু অধরা রয়ে গেছে শহিদ পরিবারকে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি। তবুও পরিবারের সদস্যরা আশাবাদী, একদিন হয়তো সব প্রতিশ্রুতিই পূরণ হবে।
.jpeg.webp)
পুলওয়ামা হামলার ৭ বছর
শেষ আপডেট: 14 February 2026 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত বছর কেটে গেছে পুলওয়ামার ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার (Pulwama Terror Attack)। কিন্তু শহিদ পরিবারের ক্ষত আজও তাজা। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা (Pulwama) জেলায় বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে CRPF কনভয়ের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। শহিদ হন ৪০ জন জওয়ান। দেশজুড়ে ক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-এ-মহম্মদ (JeM) হামলার দায় স্বীকার করলে কয়েক দিন পরই ভারত বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক চালায়।
সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে (7 years of Pulwama Attack) শনিবার দেশজুড়ে শহিদদের স্মরণ করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, সময় কেটে গেলেও প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা এতটুকুও কমেনি। অনেক প্রতিশ্রুতি আজও পূরণ হয়নি।
পাঞ্জাবের মোগা জেলায় শহিদ জওয়ান জয়মল সিংয়ের স্ত্রী সুখজিৎ কৌর বলেন, তাঁর স্বামীর নামে যে স্টেডিয়াম তৈরির কথা বলা হয়েছিল তা আজও তৈরি হয়নি। গালাউটি রোডে যে স্মৃতিফলক ও স্মারক-গেট তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেটিও এখনও অসম্পূর্ণ। তাঁর কথায়, “স্বামী ছাড়া জীবন কাটানো কতটা কঠিন, তা আমরাই জানি।” হামলার সময় জয়মল সিং যে বাসটি চালাচ্ছিলেন, সেই বাসটিই টার্গেট করেছিল আত্মঘাতী জঙ্গি।
সুখজিৎ জানান, তাঁর ছেলে হামলার সময় মাত্র সাড়ে পাঁচ বছরের ছিল। এখন বয়স ১২। বাবাকে নিয়ে আজও কথা বলে। “এখন ও বুঝতে শিখেছে, যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, আর কিছু বদলানো যাবে না,” বলেন তিনি।
এদিন তরন তারান জেলার গণ্ডিওয়ালা গ্রামেও শহিদ সুখজিন্দর সিং-এর পরিবার তাঁকে স্মরণ করেন। তাঁর ভাই গুরজন্ত সিং সরকারকে অনুরোধ করেছেন, সুখজিন্দরের নামে যে সরকারি স্কুল রয়েছে সেখানে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি তাঁর স্মৃতিতে তৈরি হওয়া স্টেডিয়ামটিও দ্রুত সম্পূর্ণ করার দাবি জানান।
দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এদিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) লেখেন, “২০১৯ সালের এই দিনে পুলওয়ামায় শহিদ হওয়া বীর জওয়ানদের স্মরণ করছি। তাঁদের ত্যাগ ও সাহস জাতির চিরস্মরণীয়।”
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) জানান, “বীর শহিদদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। দেশের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ কখনও ভোলা যাবে না।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও (Rahul Gandhi) শহিদ পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, “২০১৯ সালের সেই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী হামলায় শহিদ বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। দেশ তাঁদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।”
সাত বছর পরও পুলওয়ামার (Pulwama Terror attack) স্মৃতি তাজা, কিন্তু অধরা রয়ে গেছে শহিদ পরিবারকে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি। তবুও পরিবারের সদস্যরা আশাবাদী, একদিন হয়তো সব প্রতিশ্রুতিই পূরণ হবে।