
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 19 March 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তান বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নামে স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর তিনি বা তাঁরা যদি বৃদ্ধ বাবা-মাকে না দেখেন, সেই দলিল বাতিল করা যাবে। একটি মামলা চলাকালীন ঐতিহাসিক রায় দিল মাদ্রাজ আদালত।
দলিলে যত্ন নেওয়ার শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও, ভালবাসা ও স্নেহের ভিত্তিতে সম্পত্তি প্রদান করা হলে, তা অন্তর্নিহিত শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রয়াত এস নাগালক্ষ্মী নামের এক বৃদ্ধার সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর পুত্রবধূ এস মালার করা আপিল খারিজ করে বিচারপতি এস এম সুব্রহ্মণ্যম এবং বিচারপতি কে রাজশেখরের ডিভিশন বেঞ্চ।
মামলাটি ঠিক কী ছিল?
নাগালক্ষ্মী তাঁর পুত্র কেশবনের নামে সম্পত্তি লিখে দিয়েছিলেন, এই আশায় যে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বৃদ্ধার যত্ন নেবেন। কিন্তু কেশবন সেই দায়িত্ব পালন করেননি। কেশবনের মৃত্যুর পর বউমা মালাও তাঁকে অবহেলা করেন। ফলে তিনি নাগাপট্টিনামের রাজস্ব বিভাগীয় আধিকারিকের (RDO) কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানান।
RDO নাগালক্ষ্মীর বক্তব্য শোনার পর এবং মালার বক্তব্য বিবেচনা করে সম্পত্তির দলিল বাতিল করেন। এরপর মালা আদালতে আপিল করেন, যা খারিজ হয়।
আদালত জানিয়েছে, ২০০৭ সালের প্রবীণ নাগরিক রক্ষা আইন (Senior Citizens Act, 2007)-এর ২৩(১) ধারা অনুযায়ী, বয়স্করা যদি ভালবাসা ও স্নেহের বশে সন্তানের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন এবং সেই সন্তান যদি তাঁদের যত্ন নিতে ব্যর্থ হন, তাহলে সেই দলিল বা উপহার বাতিল করার অধিকার রয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করে দেয়, প্রবীণ নাগরিকরা বিশ্বাস করেন তাঁদের সন্তানরা ভাল-মন্দয় তাঁদের দেখবেন। বয়স হয়ে গেলে নিরাপত্তা দেবেন। আর সেই বিশ্বাসে ভর করেই সম্পত্তি হস্তান্তর করেন। এটা লিখিত শর্ত না হলেও, একটা প্রকৃত ও অন্তর্নিহিত শর্ত হিসেবে গণ্য হবে।
এই মামলার প্রসঙ্গে বিচারপতিদ্বয় জানান, ৮৭ বছর বয়সি নাগালক্ষ্মী সম্পূর্ণভাবে অবহেলার শিকার হয়েছিলেন এবং তাঁর প্রতি যত্নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ছেলে ও ছেলের বৌ, তা বিন্দুমাত্র মানা হয়নি। তাই তাঁর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত আইনগত দিক থেকে সম্পূর্ণ সঠিক।
মাদ্রাজ আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের সমর্থন জানাচ্ছেন বহু মানুষ। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব ও অনেকক্ষেত্রে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া বা লিখিয়ে নেওয়া সঙ্গে সম্পত্তির জন্য অত্যাচার করার যে ঘটনাগুলো সামনে আসে, তা কমবে।