গত ১২ জুন, বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়া বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ভেঙে পড়ে। বিমানবন্দর লাগোয়া ডাক্তারদের একটি হোস্টেল ভবন ভেদ করে বেরিয়ে গেছিল সেটি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 June 2025 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “জীবন বাজি রেখে ভিতরে ঢুকেছিলাম”। আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় (Ahmedabad Plane Crash) উদ্ধার অভিযানে কার্যত নিজেদের প্রাণের পরোয়া না করে উদ্ধারকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা, সেটাই জানালেন রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) আধিকারিক শীতল গুজর।
গত ১২ জুন, বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়া বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (Air India Plane Crash) ভেঙে পড়ে। বিমানবন্দর লাগোয়া ডাক্তারদের একটি হোস্টেল ভবন ভেদ করে বেরিয়ে গেছিল সেটি। আতঙ্ক, আগুন আর ধোঁয়ার চাদরে মুহূর্তে ঢেকে যায় এলাকা। প্রাণ হারান ২৪১ জন যাত্রী ও সকল বিমানকর্মীরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিও।
ঘটনার দিন রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দলের নেতৃত্বে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিন্টেনডেন্ট শীতল গুজর এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “দুর্ঘটনার পর হস্টেলের ভিতর ঢোকা রীতিমতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল। প্রচণ্ড তাপ, ধোঁয়া আর আগুন সহ্য করতে হয়েছিল আমাদের। মুখে ছিল অক্সিজেন মাস্ক। আর দগ্ধদের দেহ তুলতে হাতে জড়িয়ে নিতে হয়েছিল ভেজা কাপড়।”
তিনি আরও বলেন, “উদ্ধারকারীদের অনেকের হাত-পা পুড়ে গেছিল ঠিকই, তবুও তাঁরা থামেননি। আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ৩০টি অ্যাম্বুল্যান্স মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে এসে গেছিল। কাজ করতে গিয়ে কেউ পিছিয়ে আসেননি।”
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে হস্টেলে থাকা ছাত্রছাত্রীদের দগ্ধ বা দমবন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। গুজর জানান, “তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিতরে থাকা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। দমকল বিভাগ আমাদের ভিতরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে দ্রুত বাইরে বের করে আনা হয়।”
সব মিলিয়ে উদ্ধার অভিযানের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কাজ এসডিআরএফ কর্মীরাই সামলেছেন বলে দাবি তাঁর। প্রতিটি মৃতদেহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছিল বলেও জানান ওই অফিসার। “