
শেষ আপডেট: 16 October 2023 19:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমলিঙ্গের বিয়ের স্বীকৃতি চেয়ে হওয়া ঐতিহাসিক মামলার মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চে গত ১১ মে মামলার শুনানি শেষ হয়। দেশের প্রথমসারির আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। সাংবিধানিক বেঞ্চ রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, মামলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মামলার যে রায়ই হোক না কেন সমাজের উপর তা গভীর প্রভাব তৈরি করবে। তাই মামলাটির সাংবিধানিক বেঞ্চে শুনানি হওয়া বাঞ্ছনীয়।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, মামলাটির সঙ্গে একদিকে সাংবিধানিক অধিকার, অন্যদিকে বিশেষ বিবাহ আইনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের মামলাটি শোনা দরকার।
সমলিঙ্গের বিয়ে নিয়ে আগের অবস্থানেই অনড় থাকে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে কেন্দ্র বলে, এই ধরনের দাম্পত্য সম্পর্ক ভারতীয় সংস্কৃতিতে পরিবারের ধারণার পরিপন্থী। দেশের সনাতন ধারণাটি হল, শারীরবৃত্তীয় ভাবে একজন পুরুষের সঙ্গে শারীরবৃত্তীয় ভাবে নারী এমন দুজনের দাম্পত্য সম্পর্ক হতে পারে। অন্য কোনও দাম্পত্য সম্পর্ক ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
চার বছর আগে ভারতীয় দণ্ডবিধির সমলিঙ্গ সম্পর্কিত ৩৭৭ ধারাটি বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে সমলিঙ্গের প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকেরা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারেন। সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের সুবাদে এই ধরনের সমলিঙ্গের সম্পর্ককে আর অপরাধ বলে ধরা হয় না। কিন্তু তারপরও তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি নেই দেশে।
দেশের সমলিঙ্গের চার দম্পতি সুপ্রিম কোর্টে তাঁদের বিয়ের স্বীকৃতি চেয়ে মামলা করেন। সেই মামলারই শুনানি শুরু হয় এবছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্ট আগেই বলেছে দেশের হাইকোর্টগুলিতে দায়ের হওয়া মামলাগুলিও একই সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
চার মামলাকারী তাঁদের আবেদনে বলেছেন, সমলিঙ্গের বিয়ে দেশে বাড়ছে। ২০১৮ তে সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ নম্বর ধারা বাতিল করার পর সমলিঙ্গের বিয়ে বেড়েছে। ওই অনুচ্ছেদে সমলিঙ্গের মধ্যে যৌনতাকে অপরাধ বলে গণ্য করা হত।
কিন্তু ওই অনুচ্ছেদ বাতিল হওয়ার পরও স্পেশ্যাল ম্যারেজ আইনেও ম্যারেজ রেজিস্ট্রাররা সমলিঙ্গের বিয়ে রেজিস্ট্রি করাতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে জীবন বিমা কোম্পানি তাঁদের নমিনি হিসাবে দাম্পত্য সম্পর্ককে মান্যতা দিচ্ছে না।
একটি মামলায় এক দম্পতি বলেছেন, তাঁরা একটি শিশুকে দত্তক নিতে চান। শিশু দত্তক নেওয়ার সব শর্ত পূরণ করার পর শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের কাছে দম্পতি হিসাবে ম্যারেজ সার্টফিকেট দাবি করা হয়।
আর এক দম্পতি জানিয়েছেন, তাঁদের একজনের অপারেশনের আগে নিকটজনের তরফে হাসপাতালে জমা করা সম্মতিপত্র গৃহীত হয়নি আইনিভাবে বিয়ের নথিপত্র দেখাতে না পারায়।
এলজিবিটি অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন স্তরের আদালতে বিয়ের স্বীকৃতি চেয়ে কয়েক হাজার মামলা হয়েছে। কিন্তু বিচারকেরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তাদের মতে এর একটি কারণ, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এই ধরনের বিয়ের বিষয়ে আইনি অবস্থান স্পষ্ট করেনি।
সুপ্রিম কোর্টেও বর্তমান সরকার ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ নম্বর ধারা বাতিলের রায়েরও বিরোধিতা করেছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মোদী সরকারের নীতিগত অবস্থানের কারণেই সমলিঙ্গের বিয়ের স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করছে না আইনমন্ত্রক।
আইনমন্ত্রকের তরফে পেশ করা হলফনামা শুনানি শুরুর আগেই হতাশ করে মামলাকারীদের। এখন অপেক্ষা সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ তাদের রায়ে কী বলে।
প্রসঙ্গত, ৩৭৭ নম্বর ধারা বাতিলের রায়ও দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের একটি সাংবিধানিক বেঞ্চ। সেই বেঞ্চের সদস্য ছিলেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ও।