
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জিয়াউর রহমান বার্ক
শেষ আপডেট: 25 November 2024 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার উত্তরপ্রদেশের সম্ভল এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মৃত্যু হয় চার জনের। জামা মসজিদের সমীক্ষার কাজ চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। জখম বহু পুলিশ কর্মী। ঘটনার পরই থমথমে এলাকা। বন্ধ স্কুল ও ইন্টারনেট পরিষেবা।
সমীক্ষা চলাকালীন যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিরাট বাহিনী এবং ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যদের আগে থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সমীক্ষা শুরু হতেই এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে থাকে জনতার একাংশ। হামলাকারীদের কেউ কেউ গুলিও চালায় বলে অভিযোগ উঠছে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।
ঘটনায় এখনও অবধি ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সাতটি মামলা রুজু হয়েছে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন সম্ভলের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জিয়াউর রহমান বার্ক ও দলের কর্মী ইকবাল মাহমুদের ছেলে সুহেইল ইকবাল।
শাহি জামা মসজিদের জায়গাতেই আগে ছিল মন্দির। ১৯ নভেম্বর কেলা দেবী মন্দির কমিটির তরফে চনদৌসির একটি আদালতে মামলা রুজু করা হয়। মামলাকারীদের দাবি, সম্ভলের শাহি জামা মসদিজ আসলে শ্রী হরিনাথ মন্দির। যা সম্রাট বাবরের শাসনকালে, ১৫২৯ সালে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়। এই মামলার ভিত্তিতেই মসজিদের ভিডিওগ্রাফি সমীক্ষার নির্দেশ দেন বিচারক।
মঙ্গলবার অন্য একটি দল সমীক্ষাটি করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে। রবিবার ফের নতুন করে সমীক্ষা শুরু হয়। সকাল ৭টা৩০ নাগাদ এলাকায় উপস্থিত হয় সমীক্ষার দায়িত্বে থাকা দল। সেখানে ছিলেন জেলাশাসক রাজেন্দ্র পানসিয়া, পুলিশ সুপার কৃষ্ণ বিষ্ণোই, মহকুমাশাসক বন্দনা মিশ্রা, সার্কেল অফিসার অনুজ চৌধুরি এবং তহসিলদার রবি সোনকার-সহ অন্যান্যরা। তখনই অশান্তি ছড়ায়।
অন্তত ২০ জন পুলিশকর্মীর আহতের খবর রয়েছে। পুলিশের সুপারিন্টেন্ডেন্ট কৃষণ কুমার বলেন, জিয়াউরের উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্যই অশান্তি ছড়ায়। ড্রোনে নজরদারি চালিয়েই তাঁকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যদিও সমাজবাদী নেতা পাল্টা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছেন, এই অশান্তির জন্য দায়ী তারাই। তিনি বলেন, 'পুলিশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের হওয়া উচিত। অভিসন্ধি করে মুসলমানদের টার্গেট করে মারা হয়েছে।'