
শেষ আপডেট: 17 February 2024 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শৈশবের এক টুকরো আনন্দ ‘বুড়ির চুল’। পেঁজা তুলোর মতো দেখতে রঙিন মিষ্টি জিনিসটা মুখে দিলেই মিলিয়ে যায়। কেউ বলে বুড়ির চুল, আবার কেউ ডাকে হাওয়াই মিঠাই। চিড়িয়াখানা হোক বা নিক্কো পার্ক, বুড়ির চুলের দোকানের সামনে বাচ্চাদের সবসময়েই লম্বা লাইন। প্যাকেটে মোড়া ছোট ছোট রঙিন বল কেনার জন্য ছেলেবেলায় কত না হুড়োহুড়ি করেছি আমরা। আজও মেলায় গেলেই দেখতে পাওয়া যাবে হাওয়াই মিঠাইয়ের দোকানের সামনে বেশ ভিড় জমেছে। লম্বা কাঠির উপরে রঙিন তুলোর মতো মিঠাই পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বেশ বড়সড় ক্যান্ডি বানিয়ে দেন দোকানদারেরা। আর তাই কিনতেই বাচ্চাদের যত আবদার। হাওয়াই মিঠাই শুধু খাবার নয়, নস্টালজিয়া। আর এই মন ভোলানো খাবারেই বিধিনিষেধ চাপাতে চলেছে সরকার। তামিলনাড়ু, পুদুচেরীতে হাওয়াই মিঠাই পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি রাজ্যগুলিও সেদিকেই এগোতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চিনির সিরাপ দিয়ে তৈরি হয় হাওয়াই মিঠাই। এর অনেক নাম, যেমন কটন ক্যান্ডি, ফেয়ারি ফ্লস, ক্যান্ডি ফ্লস কিংবা স্পুন সুগার। পেঁজা তুলোর মতো তুলতুলে ও গোলাপি-সাদা রঙয়ের এই ঐতিহ্যবাহী হাওয়াই মিঠাই দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সময়ের বদলের সঙ্গে সঙ্গে এর রঙেও বদল এসেছে। ছোট ছোট গোলাকার হাওয়াই মিঠাই আকারে ফুলে ফেঁপে বেশ বড় হয়েছে। কাঠিতে পেঁচিয়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় এখন সব জায়গায় পাওয়া যায়। আর সেখানেই হয়েছে গন্ডগোলটা। খাদ্য সুরক্ষা দফতর জানিয়েছে, ক্যান্ডি ফ্লস বা হাওয়াই মিঠাই তৈরি করতে যে রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে তাতেই পাওয়া গেছে বিষাক্ত রাসায়নিক। এই রাসায়নিক পেটে গেলে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাবে। অর্থাৎ কার্সিনোজেনিক (যা থেকে ক্যানসার হতে পারে) উপাদান পাওয়া গেছে হাওয়াই মিঠাইতে।
পুদুচেরীর খাদ্য সুরক্ষা দফতরের কর্তারা কটন ক্যান্ডিতে ক্ষতিকারক (বিষাক্ত) রাসায়নিক খুঁজে পেয়েছেন। এর পরেই, পুদুচেরী প্রশাসন এই ক্যান্ডি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিলনাড়ু সরকারও কটন ক্যান্ডি বা ক্যান্ডি ফ্লসের বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারি এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, যে সব দোকানির কাছে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের শংসাপত্র নেই, তাঁরা হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করতে পারবেন না। শুধু তা-ই নয়, নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
কী পাওয়া গেছে কটন ক্যান্ডিতে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘রোডামাইন-বি’ নামে একধরনের রাসায়নিক পাওয়া গেছে কটন ক্যান্ডিতে। নানা রঙের হাওয়াই মিঠাই তৈরি হচ্ছে এখন। তাতে নিষিদ্ধ সব রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সব ফুড কালার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়। কিছু ব্যবসায়ী এই সব কম দামি ও খাদ্য সুরক্ষা দফতরের শংসাপত্র না পাওয়া ফুড কালার ব্যবহার করে কটন ক্যান্ডি তৈরি করছে। ফলে তাতে বিষাক্ত রাসায়নিক থেকে যাচ্ছে। আর কটন ক্যান্ডি বাচ্চারাই সবচেয়ে বেশি খায়। তাদের শরীরেও ঢুকছে সেইসব রাসায়নিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলে দ্রবণীয় ক্ষতিকর একটি রাসায়নিক হল 'রোডামাইন-বি'। এই রাসায়নিক দিয়েই হাওয়াই মিঠাই রঙ করা হচ্ছে বলে দাবি। বিভিন্ন কলকারখানাগুলিতে এই ধরনের রাসায়নিকের ব্যবহার হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই রাসায়নিক শরীরে ঢুকলে লিভার নষ্ট হতে পারে। এমনকী ক্যানসারও হতে পারে।
রাস্তার ধারের ছোট ছোট দোকানে কটন ক্যান্ডি মুড়ি-মুড়কির মত বিক্রি হয় এখন। ফেরিওয়ালারাও কটন ক্যান্ডির ছোট ছোট রঙিন বল পলিথিনে মুড়ে বিক্রি করে। এরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। কাজেই এইসব কটন ক্যান্ডি বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।