৭ জুলাই ভিক্টোরিয়া স্ট্যাভিওকে নিয়ে আচমকা উধাও হয়ে যান। এরপরই সৈকত বসু সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেন। সেই মামলার শুনানিতে ধাপে ধাপে বেরিয়ে আসে ভিক্টোরিয়ার পালিয়ে যাওয়ার রুট, দিল্লি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং একাধিক গাফিলতির বিষয়।

সৈকত ও ভিক্টোরিয়া
শেষ আপডেট: 1 August 2025 17:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দননগরের বসু পরিবারের রুশ বউমা ভিক্টোরিয়া ঝিগালিনা সন্তান স্ট্যাভিওকে নিয়ে দেশ ছাড়ার ঘটনায় আরও কঠোর হল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ সরাসরি দায় চাপাল দিল্লি পুলিশের গাফিলতির উপর। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, ‘শিশুটি ছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের হেফাজতে। সেই হেফাজত থেকে তাকে নিয়ে চলে যাওয়া হল, আর আপনি চুপ করে থাকবেন?’
সেই সঙ্গে এবার এই মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হল রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের উপর। বিচারপতি বাগচী এ দিন স্পষ্ট জানান, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নিজে গোটা ঘটনার তদন্ত করবেন। মস্কোর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন।
কী বলছে আদালত?
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, ভিক্টোরিয়া ও তাঁর সন্তান স্ট্যাভিওর উপর দিল্লি পুলিশকে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। কিন্তু আদালতের দাবি অনুযায়ী নজরদারিতে চূড়ান্ত ব্যর্থ দিল্লি পুলিশ। বেঞ্চ জানায়, সময়মতো পদক্ষেপ করলে ভিক্টোরিয়া এত সহজে দেশ ছাড়তে পারতেন না।
এ দিনের শুনানিতে আদালত জানায়, সন্তানের হেফাজত সংক্রান্ত মামলার রায় এখনও হয়নি। সে ক্ষেত্রে বাবা-মা, কারও পক্ষেই আদালত শিশুটির হেফাজত দেয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই মা শিশুকে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন, যা আদালতের সরাসরি লঙ্ঘন।
শীর্ষ আদালত দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রকে সতর্ক করে জানিয়ে দেয়, ‘আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করছি, ইন্টারপোল ও রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিশুকে কীভাবে ফেরানো সম্ভব তা দ্রুত দেখা হোক। না হলে সবচেয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেব।’
ভিক্টোরিয়ার পালানোর রুট কী?
কেন্দ্র আগেই আদালতে জানিয়েছিল, ভিক্টোরিয়া প্রথমে দিল্লি থেকে ট্যাক্সি করে বিহারের নারকাটিয়াগঞ্জ যান। সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে ঢোকেন। এরপর বিমানে শারজাহ হয়ে সম্ভবত মস্কো পৌঁছন।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশে রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে।
কে এই ভিক্টোরিয়া?
ভিক্টোরিয়া ঝিগালিনার সঙ্গে সৈকত বসুর আলাপ হয়েছিল চিনে কর্মরত অবস্থায়। ২০১৭ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। এরপর তাঁরা ভারতে ফিরে আসেন। ২০২০ সালে জন্ম নেয় তাঁদের একমাত্র ছেলে স্ট্যাভিও।
সৈকতের বাবা সমীর বসু, যিনি ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন কর্তা, অভিযোগ করেছেন, ভিক্টোরিয়া আসলে রুশ গুপ্তচর। তাঁর দাবি, ভিক্টোরিয়ার বাবা কাজ করতেন রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা FSB-তে। সেই সূত্রেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে তাঁর পরিচয় ঘিরে।
৭ জুলাই ভিক্টোরিয়া স্ট্যাভিওকে নিয়ে আচমকা উধাও হয়ে যান। এরপরই সৈকত বসু সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেন। সেই মামলার শুনানিতে ধাপে ধাপে বেরিয়ে আসে ভিক্টোরিয়ার পালিয়ে যাওয়ার রুট, দিল্লি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং একাধিক গাফিলতির বিষয়।
আগামী দশ দিন পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে শীর্ষ আদালতে। তার মধ্যেই রাষ্ট্রদূতের তদন্ত রিপোর্ট পেশের সম্ভাবনা থাকছে।