
টাকার রেকর্ড অধঃপতন
শেষ আপডেট: 13 January 2025 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহের প্রথম দিনই ভারতীয় মুদ্রার রেকর্ড পতন ঘটল। সোমবার ডলারের তুলনায় রুপির দর গিয়ে ঠেকেছে ৮৬-রও উপরে। আমেরিকার আর্থিক নীতির প্রভাবেই এই অধঃপতন বলে মনে করা হচ্ছে (Gold Price)।
শুক্রবার ডলারের বিনিময়ে টাকার দর ছিল ৮৫.৯৬৫০। সোমবার তা কমে হয়েছে ৮৬.২০৫০-এ। এই পতন বাজারের উপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
আমেরিকার শ্রম দফতরের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, অক্টোবর মাসে দেশটিতে ২ লক্ষ ৫৬ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের (১ লক্ষ ৬০ হাজারের) তুলনায় অনেকটাই বেশি। একইসঙ্গে, বেকারত্বের হার কমে পৌঁছেছে ৪.১ শতাংশে। মর্গ্যান স্ট্যানলির মতে, এই কর্মসংস্থানের তথ্য শ্রম বাজারের দুর্বলতা নিয়ে সংশয় দূর করেছে এবং ফেডার নজর দিচ্ছে মুদ্রাস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই বছরে সুদের হার বড়সড় ভাবে কমার সম্ভাবনা কার্যত নেই। বরং ২০২৫ সালে হয়তো একবার সুদ কমতে পারে। গত বছর সেপ্টেম্বার থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ফেড তিন বার সুদের হার কমিয়েছিল।
এই রিপোর্টের মতে, এহেন মার্কিন আর্থিক নীতি সরাসরি প্রভাব সরাসরি ফেলছে ভারতীয় মুদ্রার উপর। এমনিতেই ডলারের তুলনায় দুর্বল পারফরম্যান্স করছে ভারতের রুপি। ভারতীয় মুদ্রার এই পতন ইমার্জিং মার্কেটগুলির জন্য বিশেষ উদ্বেগজনক। ভারতীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমদানির খরচ বাড়তে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফেডারাল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর নজর রেখে রুপির দরের এই অনিশ্চয়তা আপাতত বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে আপাতত সোনার দামে এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। টানা তিন সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সোমবার সোনার দামে (Gold Price) স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারি জন্য মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনার ফিউচার চুক্তিমূল্য সোমবার দিন শুরু করেছে ₹৭৮,২৫৯ প্রতি ১০ গ্রাম দর দিয়ে, যা ছিল শুক্রবারের ₹৭৮,৪২৩ থেকে কিছুটা কম। তবে, কিছুক্ষণের মধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী গতিবেগ নিয়ে করে তা পৌঁছায় ₹৭৮,৪০০-তে, মাত্র ₹২৩ দূরে শুক্রবারের ক্লোজিং দামের থেকে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সোনার দাম বর্তমানে $২,৬৮৭.৫৬ প্রতি আউন্সে দোদুল্যমান, অন্যদিকে কমেক্স(COMEX) সোনার দাম ঘোরাফেরা করছে $২,৭১৫ প্রতি ট্রয় আউন্সে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপথ ও বিনিয়োগকারীদের মনোভাবই সামনের দিনে সোনার দামে প্রভাব ফেলবে।