আরএসএস কোনও রাজনৈতিক দলকে নয়, নীতিকে সমর্থন করে, দাবি মোহন ভাগবতের।

মোহন ভাগবত
শেষ আপডেট: 9 November 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'বিজেপি বলে নয়, আরএসএস কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকেই সমর্থন করে না, তারা কেবল নীতিকে সমর্থন করে।' এমনই দাবি করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, 'আমরা কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না, ভোটের রাজনীতিতে অংশ নিই না। সংঘ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে, কিন্তু রাজনীতি বিভাজনের।'
সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত হয়েছিল একটি অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংঘ প্রধান। মূল অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং সেখানেই বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করেন।
ঘোষিত না হলেও আরএসএসের সঙ্গে জুড়ে আছে বিজেপির নাম। তাহলে কি আরএসএস বিজেপির বি টিম? ভাগবত বিস্ফোরক দাবি করেন উত্তরে। বলেন, 'আমরা নীতিকে সমর্থন করি। উদাহরণ হিসেবে ধরুন, অযোধ্যায় রামমন্দির চেয়েছিলাম। তাই স্বয়ংসেবকেরা সেই দলকেই ভোট দিয়েছে যারা মন্দির নির্মাণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কংগ্রেস যদি সমর্থন করত, স্বয়ংসেবকেরা তাদের ভোট দিতেন।'
তিনি এক্ষেত্রে সাফ জানান, কোনও দলের প্রতি বিশেষ অনুরাগ নেই সংঘের, কোনও দল নয়। কোনও দল তাঁদের নয়, আবার সব দলই তাঁদের কারণ সবই ভারতীয় দল। রাজনীতি নয়, রাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করে আরএসএস।
ভাগবত যোগ করেন, 'দেশের জন্য আমাদের একটা দিশা আছে। যারা দেশকে সেই দিশায় নিয়ে যাবে, তাদেরই আমরা সমর্থন করব।'
মুসলমানদের আরএসএসে যোগদানের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে ভাগবতের জবাব, 'কোনও ব্রাহ্মণকে, কোনও জাতির মানুষকে, কোনও মুসলমান বা খ্রিস্টানকে আলাদা করে নেওয়া হয় না। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ- মুসলমান বা খ্রিস্টান- সংঘে যোগ দিতে পারেন, কিন্তু তাঁদের পৃথক পরিচয় বাইরে রেখে। শাখায় আসলে তাঁরা আসেন ভারত মাতার সন্তান হিসেবে। আমরা কাউকে গুনে দেখি না, জিজ্ঞেসও করি না কে কী।'
আরএসএস কেন নিবন্ধিত সংগঠন নয়, সেই প্রশ্নেও প্রতিক্রিয়া দেন ভাগবত। তাঁর কথায়, 'এই প্রশ্নের উত্তর বহুবার দেওয়া হয়েছে। সংঘ ১৯২৫ সালে শুরু হয়। তখন কি আমরা ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে নিবন্ধন করব? স্বাধীনতার পর আইন অনুযায়ী নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। আমরা ‘বডি অফ ইন্ডিভিজুয়ালস’ হিসেবে স্বীকৃত। আমাদের তিনবার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, আদালত প্রত্যেকবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। যদি আমরা না থাকি, তবে কাকে নিষিদ্ধ করেছিল সরকার?'
আরএসএস সাংবিধানিকভাবে বৈধ সংগঠন। তাই নিবন্ধন করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ভাগবত। তাঁর মতে, অনেক কিছুই নিবন্ধিত নয়, হিন্দু ধর্মও নয়। যত বিরোধিতা হবে সংঘ আরও শক্তিশালী হবে।
সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং তাঁর ছেলে প্রিয়ঙ্ক খাড়্গে-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতা আরএসএসকে আক্রমণ করেন। মল্লিকার্জুন খাড়্গে ব্যক্তিভাবে আরএসএস নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। সেই প্রেক্ষিতেই ভাগবতের এই মন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় পতাকা নিয়ে সংঘের অবস্থান নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। বলেন, “সংঘ ১৯২৫ সালে ভগবা পতাকা গ্রহণ করে, আর জাতীয় পতাকা নির্ধারিত হয় ১৯৩৩ সালে। পতাকা কমিটি একমত হয়ে ঐতিহ্যবাহী ভগবা পতাকা প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু গান্ধীজি হস্তক্ষেপ করে তিন রঙের প্রস্তাব দেন, উপরে গেরুয়া। সেই থেকে সংঘ সর্বদা তিরঙ্গাকে সম্মান করেছে, রক্ষা করেছে। আমাদের কাছে ভগবা ও তিরঙ্গার মধ্যে কোনও বিরোধ নেই।”
কমিউনিস্ট পার্টির লাল পতাকা আছে, কংগ্রেসের তিরঙ্গায় চরকা, রিপাবলিকান পার্টির নীল পতাকা, তাঁদের 'ভগবা' পতাকা। কিন্তু আরএসএস জাতীয় পতাকাকেও যথাযোগ্য সম্মান দেয় বলে মনে করেন তিনি।